• নারীশক্তি? কুম্ভীরাশ্রু মোদির, বঙ্গে প্রথম দফায় বিজেপির মহিলা প্রার্থী মাত্র ১৫
    বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি: এককাট্টা বিরোধী ভোটে বানচাল হয়ে গিয়েছে মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধনীর মোড়কে পদ্ম শিবিরের এলাকা পুনর্বিন্যাসের (ডিলিমিটেশন) কারসাজি। সংসদে সংখ্যার বেইজ্জতির ড্যামেজ কন্ট্রোলে সরকারি চ্যানেলে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন এবং বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে প্রমাণের চেষ্টা করে গিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, রবিবার বাংলায় প্রচারে এসেও ধরে রেখেছেন সেই এক রিংটোন—‘নারীশক্তির ক্ষমতায়নে ভ্রূণহত্যা’। বাঁকুড়ার ফুলবেড়িয়ার নির্বাচনি জনসভায় ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘আমরা চাই রাজনীতিতে মহিলারা বেশি করে যোগদান করুক। কিন্তু সংসদে কী হয়েছে, তা আপনারা জানেন। কংগ্রেস ও তৃণমূল মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ চায় না। তাই তারা সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে।’ কিন্তু বাস্তব কি সেটাই? সংসদের এমপিদের পরিসংখ্যান দ্বিতীয় সারিতে রেখে যদি সবার আগে ২৩ এপ্রিল বাংলার ১৫২টি আসনের বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলেই ছবিটা স্পষ্ট হবে। দেখা যাচ্ছে, নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে ঢাক বাজানো বিজেপির মহিলা প্রার্থীর সংখ্যাই সবচেয়ে কম। মাত্র ১৫ জন। সেখানে তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেস—প্রত্যেকেরই মহিলা প্রার্থী প্রদানের হার গেরুয়া পার্টির থেকে বেশি। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ও হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ। তারাই জানাচ্ছে, বিজেপির ক্ষেত্রে অঙ্কটা মাত্র ১০ শতাংশ।

    মহিলা সংরক্ষণ ইস্যু যে প্রধানমন্ত্রীকে ঘরে-বাইরে বিপুল চাপে ফেলেছে, সে বিষয়ে কোনো মহলেরই সন্দেহ নেই। আর তাই কংগ্রেস হোক বা তৃণমূল, প্রত্যেক বিরোধী দলই মোদির অভিব্যক্তিকে ‘কুম্ভীরাশ্রু’ বলে দেগে যাচ্ছে। বিরোধীরা সাফ বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কুর্সির অপব্যবহার করছেন মোদি। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হোন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রত্যেকেই এক সুরে বলছেন, তিন বছর ধরে কেন তাহলে ফেলে রাখা হয়েছে মহিলা সংরক্ষণ আইন। কে বারণ করেছিল কার্যকর করতে? তখন তো সব বিরোধী দলই এক কথায় এই আইনের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বরং অন্য দলগুলি বহু ক্ষেত্রেই বেশি সংখ্যায় মহিলাদের জনপ্রতিনিধিত্বে জোর দিয়েছে। ব্যতিক্রম বিজেপি। পঞ্চায়েত থেকে রাজ্যসভা-লোকসভা—সর্বত্র মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারের বিধানসভা ভোটেও তার অন্যথা হয়নি। প্রথম দফায় রাজ্যের শাসক দলের ১৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে মহিলা ২৪ জন (১৬ শতাংশ)। শতাংশের নিরিখে সিপিআইএমএল অবশ্য এগিয়ে। তাদের ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই মহিলা প্রার্থী (৭৫ শতাংশ)। তারপরও নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে বলে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। বাঁকুড়ার পাশাপাশি পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর। তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে আপনারা সবাই মোদি। তৃণমূলের মহিলা বিরোধী স্বভাব সামনে এসেছে।’ আর বাংলার মহিলারা? তাঁরা পেয়েছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী। মিথ্যাচার আর বাস্তবের ফারাক তাঁরা নিশ্চিতভাবে বোঝেন।
  • Link to this news (বর্তমান)