• জিতবে বাংলার অধিকার, বিজেপির বিরুদ্ধে হুংকার প্রত্যয়ী মমতার
    বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু, সুখেন্দু পাল, তারকেশ্বর ও কালনা: আর ৭২ ঘণ্টা পর রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। কিন্তু বাংলার অধিকার খর্ব করার ‘গেরুয়া খেলা’ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না! এই খেলার ‘প্রধান খেলোয়াড়’ খোদ নির্বাচন কমিশন! কারণ, এসআইআরের নামে লক্ষ লক্ষ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। ভোটাধিকারের পর কি নাগরিকত্বও হারাতে হবে? আতঙ্ক তাড়া করছে বহু মানুষকে। সেই সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের বুলডোজার হুঁশিয়ারি এবং বিভেদ-বিভাজনের রাজনীতির জাঁতাকলে পিষছে বাংলার আম জনতা। আরও অভিযোগ, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, বিজেপি-কমিশনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তত বেশি ‘সক্রিয়’ হচ্ছে ইডি-সিবিআই-আয়কর দপ্তর। লক্ষ্য একটাই—যেভাবেই হোক বাংলা দখল! তবে যাবতীয় চোখরাঙানি উপেক্ষা করে বাংলার মানুষ এই অত্যাচারের জবাব দেবে বলে আরও একবার দৃপ্ত কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তাঁর হুংকার, ‘ভোটের পাখি হয়ে উড়ে আসা বহিরাগতরা বাংলা ছাড়বে। জিতবে বাংলার অধিকার। মনে রাখবেন, বাংলা মাথা নত করে না।’ 

    রবিবার অক্ষয় তৃতীয়ায় হুগলির তারকেশ্বরে জনসভা করেন মমতা। সেখানে সভা শেষ করে তিনি চলে যান পূর্ব বর্ধমানে। তীব্র গরমের মধ্যে কালনা এবং মন্তেশ্বরে সভা করেন তিনি। প্রতিটি জায়গা থেকে বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার যে অভিযোগ  উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে, এদিন শুরু থেকেই সেই ইস্যুতে মোদি-শাহকে তীব্র আক্রমণ করেন জননেত্রী। সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিলের ভোটাভুটিতে শাসক শিবিরের পরাজয়কে শনিবার ‘মোদির পতনের শুরু’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে শনিবার রাতেই দূরদর্শনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। মমতা বলেন, ‘সরকারি চ্যানেলকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রচার করেছেন মোদি। এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হবে।’ একই সঙ্গে তিনি সমান আক্রমণাত্মক ছিলেন মোদির ‘এজেন্সি রাজ’ নিয়ে। একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে মমতার হুংকার, ‘ভোটে জিতবে না জেনেই এজেন্সিকে হাতিয়ার করেছে বিজেপি। ইডি, সিবিআই, আয়কর দপ্তরকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে অত্যাচার করা হচ্ছে। যাঁরা অত্যাচার করছেন, তাঁদের শুভকামনা জানাই। কারণ, আপনারা যতই অত্যাচার করুন, এবার তৃণমূল আরও বেশি আসন পাবে।’

    এদিন তারকেশ্বরের সভা থেকে সিঙ্গুর আন্দোলনের স্মৃতিচারণাও করেন মমতা। বলেন, ‘আজকে নির্বাচন কমিশনের তরফে যে অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিককে মানুষের অধিকার কাড়তে বাংলায় পাঠানো হয়েছে, সিঙ্গুরে চাষিদের জমি কেড়ে নেওয়ার মূল কাণ্ডারী ছিলেন তিনিই।’ কালনার সভা থেকে তিনি মনে করিয়ে দেন, সেখানে কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন মহিলা কার্ড বিলি করেছিলেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। মা-বোনেদের সঙ্গে প্রতারণার লক্ষ্যেই ওই কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মমতা। এসবের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্যই বিজেপি তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করছে বলেও বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘বিজেপি আমাকে খুন করার পরিকল্পনা করছে। আমি একা থাকব। আর কেউ থাকবে না। বন্দুকটা আমার বুকে চালিয়ে দাও। আমি বুক পেতে দেব। কিন্তু মাথা নত করব না। তৃণমূলের কেউই মাথা নত করবে না। তৃণমূলকে হারানোর ক্ষমতা তোমাদের নেই।’
  • Link to this news (বর্তমান)