বিদেশ ভ্রমণ, তা-ও আবার ইউরোপ! প্যারিস বা সুইৎজ়ারল্যান্ড ঘোরার তো বিশাল খরচ! তবে ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যদি পাহাড় আর সমুদ্রের নির্জন মিতালী দেখতে চান, তবে আপনার তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত মন্টিনিগ্রো। বলকান অঞ্চলের এই ছোট্ট দেশটিতে রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়া, নীল জলরাশি আর ছবির মতো সাজানো পাহাড়।
মন্টিনিগ্রো শব্দের অর্থ ‘কালো পাহাড়’। আক্ষরিক অর্থেই তাই। ডিনারিক আল্পসের রেঞ্জ এসে মিশেছে আড্রিয়াটিক সাগরের নীল জলে। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তো পর্যটকদের মুগ্ধ করবেই, একইসঙ্গে পকেট-বান্ধব ইউরোপীয় ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও হবে।
মন্টিনিগ্রো ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভারতীয়দের জন্য কিছু বিশেষ নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের মন্টিনিগ্রোর ভিসার প্রয়োজন হয়। তবে আপনার যদি বৈধ মাল্টিপল এন্ট্রি (Schengen) ভিসা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউকে-র ভিসা থাকে, তবে ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা-মুক্ত প্রবেশের সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষ এই ভিসা না থাকলে দিল্লি বা নিকটস্থ কনস্যুলেট থেকে মন্টিনিগ্রো ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
১. কোটোর (Kotor): ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট কোটোর পুরোনো স্থাপত্য এবং দুর্গের জন্য বিখ্যাত। এখানকার আঁকাবাঁকা রাস্তা আর পাহাড়ের উপর থেকে কোটোর উপসাগরের দৃশ্য ভোলার নয়।
২. বুডভা (Budva): যাঁরা সমুদ্রসৈকত এবং রঙিন জীবন পছন্দ করেন, এই জায়গা তাঁদের জন্য। এখানকার ‘ওল্ড টাউন’ আর সাজানো সৈকত পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।
৩. ডার্মিটর ন্যাশনাল পার্ক (Durmitor National Park): যাঁরা ট্রেকিং বা হাইকিং করতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি স্বর্গ। এখানকার ‘ব্ল্যাক লেক’ বা তারা নদী উপত্যকার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।
৪. সভেতি স্টেফান (Sveti Stefan): সমুদ্রের মাঝে একটি ছোট্ট দ্বীপ-গ্রাম, বর্তমানে এটি এখন একটি লাক্সারি রিসর্ট। সুনীল জলরাশির মাঝে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, সাজানো গ্রাম একেবারে ছবির মতোই সুন্দর।
৫. পেত্ৰাভাক (Petrovac): শহরের কোলাহল ছেড়ে শান্তিতে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে এই উপকূলীয় শহরটি আদর্শ।
বিদেশে ঘুরতে এলে ভারতীয়রা খাবার নিয়ে বড্ড চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে মন্টিনিগ্রোরতে এলে এই ধরনের সমস্যা হবে না। সামুদ্রিক মাছের বিভিন্ন পদের পাশাপাশি এখানকার রুটি এবং গ্রিল করা মাংসের নানা পদ বেশ জনপ্রিয়। যাঁরা নিরামিষাশী, তাঁদের জন্য পিৎজ়া, পাস্তা এবং প্রচুর ফ্রেশ স্যালাড পাওয়া যায়। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় মন্টিনিগ্রোতে থাকার এবং যাতায়াতের খরচ অনেকটাই কম।
মন্টিনিগ্রো ভ্রমণের সেরা সময় হলো মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস। এই সময়ে আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম থাকে। বাচ্চাদের স্কুলে গরমের কিংবা পুজোর ছুটিতে মন্টিনিগ্রো আসার প্ল্যান করা যেতেই পারে।