ভিন রাজ্য থেকে হিন্দিভাষী নেতারা এসে বাঙালির উপরে ছড়ি ঘোরাবে, তা মানা যায় না— ভোটের প্রচারে গিয়ে এমনই বক্তব্য সাংসদ শতাব্দী রায়ের। রবিবার বীরভূমের সিউড়ির হাটজন বাজার কলোনিতে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে জনসভা করেন শতাব্দী। সেখানেই তিনি বলেন, ‘হিন্দি বলাটা দোষ নয়। কিন্তু গুজরাট, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র থেকে যে নেতারা ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করছেন, তাঁরা আমাদের উপরে লাঠি ঘোরাবে, গুন্ডাগিরি করবে এটা কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের, পশ্চিমবঙ্গবাসীর মেনে নেওয়া উচিত নয়।’
সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এ বার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তৃণমূল এখানে উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে। বিজেপির মুখ জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। মূলত এখানে লড়াই দুই ফুলের। দুই প্রার্থীই চুটিয়ে প্রচার করছেন। দুই দলেরই শীর্ষ নেতারা প্রার্থীর হয়ে প্রচার করে গিয়েছেন সিউড়িতে।
২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ভোট এখানে। কার দিকে পাল্লা ভারী, হাওয়া কোন দিকে ঘুরছে, সিউড়িবাসীও এখনও জোর দিয়ে বলতে পারছেন না। রবিবার উজ্জ্বলের হয়ে ভোটপ্রচারে গিয়ে শতাব্দী রায় বলেন, ‘যাকে ভোট দিই, সে কাজ করুক বা না করুক ভদ্রলোক হোক। তাঁর সঙ্গে কথা বললে যেন ভালো লাগে। আমার সব কাজ না করতে পারুক, আমার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুক। উজ্জ্বল সেই লোক।’
শতাব্দীর দাবি, কারও হয়ত জেলায় জন্ম। অথচ জন্মের পর থেকেই অন্য জায়গায় থাকেন। ভোটে প্রার্থী হয়েই ‘ভূমিপুত্র’ বলে দাপাদাপি করছেন। শতাব্দীর বার্তা, ‘আমাদের দিদি, আমাদের কাছের মানুষ। তাঁকে হারাতে বিজেপির এত লাফালাফি। কারণটা বাংলা জয় নয়। কারণ হলো, দিদি একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি মোদীর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো গেলে তবেই ওদের লাভ।’
যদিও বিজেপির দাবি, তৃণমূলের পায়ের নীচে মাটি নড়বড় করছে। ভয়ে দলের নেতা কর্মীরা অনেক কিছুই বলছেন। ৪ মে সব জবাব পেয়ে যাবেন।