এই সময়, কালনা ও বর্ধমান: ভোট এলে দিন কয়েকের জন্য বাড়ি ফেরেন ওঁরা। ভোট দিয়ে আবার ভিন রাজ্যের কর্মস্থলে ফিরে যান। সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা রবিবার ফের শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিজেপির বিরুদ্ধে।
মমতার দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে থাকা বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে অত্যাচার চলছে। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা যদি গীতা বা কোরান ছুঁয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে, তবেই তাঁরা ট্রেনের টিকিট পাচ্ছেন।’ অর্থাৎ, ভোটের শর্তে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে— এমন অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এ দিন হুগলির তারকেশ্বর এবং পূর্ব বর্ধমানের কালনার মিরহাট ও মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রাম ফুটবল মাঠ আয়োজিত সভায় একই দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।
সপ্তাহ দুয়েক আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় মমতা অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিটও দেয় না পরিযায়ী শ্রমিকদের। বাসে করে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হলেও উত্তরপ্রদেশে আটকে দেওয়া হচ্ছে।’
এ দিন কালনার মিরহাটে বেলা একটায় সভার কথা থাকলেও তারকেশ্বরের সভা শেষে মমতা এখানে পৌঁছন বেলা পৌনে তিনটে নাগাদ। সভায় জানান, বেচারাম মান্না তাঁকে জানিয়েছেন যে বাইরে থেকে ফেরা হিন্দু শ্রমিকদের গীতা ছুঁইয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করানো হচ্ছে। একই ভাবে মুসলিম শ্রমিকদের কোরান ছুঁইয়ে একই প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হচ্ছে, তবেই নাকি তাঁদের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি এমন চাপ দেয়, তা হলে বাড়ি ফিরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বলবেন, ওদের ভোট দিতে পারব না। এ ভাবে চাপিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মানা উচিত নয়।’
বুধবার কালনার আশ্রমপাড়ায় এসে কয়েকজন মহিলার হাতে প্রতীকী ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ড তুলে দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। দাবি করেছিলেন, বাংলায় হস্তচালিত তাঁতের দুর্দশা চলছে। এ দিন মমতা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী না অনর্থমন্ত্রী— আমি জানি না। বেআইনি ভাবে কার্ড বিলি করে নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন। ধিক্কার জানাই। রবিদাকে (রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়) বলব, মা–বোনেদের দিয়ে এফআইআর করান।’ এই বক্তব্যর প্রসঙ্গে বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি স্মৃতিকণা বসু বলেন, ‘লুকিয়ে কিছু করা হয়নি। ক্ষমতায় আসলে প্রকল্প চালু হবে।’
মন্তেশ্বরে প্রচার সেরে বর্ধমান দক্ষিণের দলীয় প্রার্থী খোকন দাসের সমর্থনে পদযাত্রায় অংশ নেন তৃণমূল সুপ্রিমো। স্পন্দন কমপ্লেক্সের মাঠে হেলিকপ্টারে নেমে সেখান থেকে প্রায় দু’কিমি হাঁটেন। ঢলদিঘি পেট্রল পাম্প, কালীবাজার ও বীরহাটা ব্রিজের কাছে থাকা সমর্থকদের থেকে ফুল গ্রহণ করেন। ছন্দপতন ঘটে বীরহাটায়। সেখানে হাত মেলানোর সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে নিজেদের ডেকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন কয়েকজন মহিলা। নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি সামলে নিলেও মমতা সামান্য চোট পান।
দলনেত্রীর সঙ্গে হেঁটেছেন প্রার্থী খোকন ছাড়া হেঁটেছেন বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার, শহর সভাপতি তন্ময় সিংহ রায়, ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি স্বরাজ ঘোষ। পদযাত্রা শেষে হেলিপ্যাডের দিকে যাওয়ার সময়ে বর্ধমানের অফিসার্স কলোনির মোড়ে একদল ব্যবসায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে ধরেন। মহিন্দর সিং সালুজা নামে এক ব্যবসায়ী মমতাকে একটি ফুলের তোড়া ও একটি বিশেষ কয়েন দিয়ে বলেন, ‘দিদি আমাদের একটু দেখবেন।’ পরে মহিন্দর জানান, অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দিয়েছেন তিনি।