এই সময়, বড়জোড়া ও পুরুলিয়া: বৃহস্পতিবার বিধানসভার প্রথম পর্বের নির্বাচন। তার আগে শেষ রবিবার রাঢ়বঙ্গে ঝড় তুলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক দিকে দুর্নীতি, তোষণ, অত্যাচার নিয়ে তীব্র আক্রমণ রাজ্যের শাসকদলকে। অন্য দিকে মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড, চিকিৎসার জন্য সহায়তা, গর্ভাবস্থায় আর্থিক সহায়তা, পাইপ লাইনের মধ্যে দিয়ে সরাসরি রান্নাঘরে জ্বালানি গ্যাস পৌঁছে দেওয়া-সহ মহিলাদের জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে চালু করার রাশিকৃত প্রতিশ্রুতির কথা মোদীর মুখে।
এ দিন সকালে বাঁকুড়ার ১২ জন বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে মোদী জনসভা করেন বড়জোড়ায়। জেলার মানুষের মন জিততে বক্তব্যের শুরুতে যেমন বাংলা নববর্ষ এবং অক্ষয় তৃতীয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনই স্মরণ করেন এই জেলার তিন কিংবদন্তি যামিনী রায়, রামকিঙ্কর বেইজ ও মা সারদা-কে। স্মরণ করেন বিষ্ণুপুরের প্রাচীন দেবতা মদনমোহন, শ্যামরাই এবং এক্তেশ্বর ধামের মহাদেবকে।
মোদী বলেন, 'তৃণমূলকে শাস্তি দেওয়ার সময় এসেছে। এই দলের দুষ্কৃতীদের সাবধান করে দিচ্ছি, এটাই শেষ সুযোগ। যত শিগগির সম্ভব, থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন।' মোদীর দাবি, শাসকদলের হাত ধরেই এই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা অসম্ভব বেড়ে গিয়েছে। তৃণমূল সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষের সবকিছু লুট করে নিচ্ছে। ফলে শিল্পও হয় না এই রাজ্যে। তিনি বলেন, 'রাজ্যে বিজেপি সরকার এলে পাঁচ লক্ষ টাকার চিকিৎসা সুযোগ পাবেন।'
ঝাড়গ্রামে তিনি খেয়েছেন ঝালমুড়ি। পুরুলিয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখে উঠে এল ভাবরা ভাজা থেকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে জেলার দুই শহীদ গোবিন্দ-চুনারামের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, 'আগে কয়েক বার পুরুলিয়ায় আসার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু এই সভায় উৎসাহ আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। যত দূর চোখ যায়, শুধুই মানুষ। এর অর্থ, ৪ মে এখানে ভাবরা ভাজা ও পিঠের উৎসব হবে।'
ভাবরা ভাজা পুরুলিয়ার বিশেষ তেলেভাজা। আকারে জিলিপির মতো। বেসন দিয়ে তৈরি মুচমুচে, নোনতা ও সুস্বাদু। বাঁকুড়ার মতো এখানেও অনেক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ছবি এঁকে নিয়ে আসেন। মোদী সেগুলি এসপিজিকে সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়ে জানান, ছবির পিছনে ঠিকানা লেখা থাকলে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠাবেন।