• বঙ্গে ‘মোস্ট সেনসিটিভ’ বুথে শুধুই CRPF, নজিরবিহীন নির্দেশ
    এই সময় | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • সুরবেক বিশ্বাস

    বুথগুলোকে এতদিন চার ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গে এ বারের বিধানসভা ভোটে নির্বাচন কমিশন বুথগুলোর আরও একটি গোত্র বা শ্রেণির কথা শনিবার জানিয়েছে। 'মোস্ট সেনসিটিভ' বুথ। সাধারণ বা নরম্যাল, স্পর্শকাতর বা সেনসিটিভ, অতি স্পর্শকাতর বা সুপার সেনসিটিভ এবং ক্রিটিকাল— এই চার ধরনের বুথে বিভিন্ন ধরনের কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী থাকবে। তবে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, মোস্ট সেনসিটিভ বুথে মোতায়েন করতে হবে কেবলই সিআরপিএফ (সেন্ট্রাল রিজ়ার্ভ পুলিশ ফোর্স)-কে।

    অর্থাৎ, স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে, মোস্ট সেনসিটিভ বুথগুলোয় সেটা হবে শুধুই সিআরপিএফ। শনিবার, ১৮ এপ্রিল রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক চিঠি দিয়ে {No: 5420–Home (Elec.), Dated: 18/04/2026} পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এডিজি লিগাল (যিনি স্টেট পুলিশ নোডাল অফিসার), সিআরপিএফের পশ্চিমবঙ্গের আইজি (যিনি রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোঅর্ডিনেটর) এবং সব ডিইও (ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার)–কে ওই নির্দেশ দিয়েছেন।

    নির্বাচন কমিশনের এ রকম নির্দেশ নজিরবিহীন বলে অভিজ্ঞ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অফিসারদের একাংশের অভিমত।

    নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সিআরপিএফেরই দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সমস্যা-সহ নানা ধরনের স্পর্শকাতর পরিস্থিতির মোকাবিলা করে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষমতা সিআরপিএফের রয়েছে বলে কমিশন মনে করছে এবং সে কথা জানানো হয়েছে শনিবার পাঠানো চিঠিতে।

    বিধানসভা ভোটের জন্য সিআরপিএফ ছাড়া যে সব কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় এসেছে, তারা হলো: বিএসএফ, সশস্ত্র সীমা বল, আইটিবিপি এবং সিআইএসএফ। এর মধ্যে সিআইএসএফ মোতায়েন রয়েছে বিমানবন্দর, কিছু কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস, দিল্লি মেট্রো রেল এবং কিছু পরিকাঠামোর নিরাপত্তায়। বাকি তিনটি বাহিনী মূলত আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারা দেয়। অন্য দিকে, শুধু সিআরপিএফেরই যোগাযোগ থাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে, অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর তুলনায় সাধারণ মানুষের প্রতি সিআরপিএফের মনোভাব কঠিন নয় এবং সে ভাবেই ওই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তৈরি করা হয়েছে।

    বাংলায় ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের জন্য আসা প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় অর্ধেক সিআরপিএফ। কমিশন সূত্রের খবর, অন্যান্য বার সিআরপিএফ কেবল স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে ডিউটি করলেও আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি লাঠি এ বার তাদের রাখতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া, আগে সিআরপিএফের ৯ জনের কুইক রেসপন্স টিমের (কিউআরটি) গাড়িতে কাঁদানে গ্যাস সরবরাহ করত রাজ্য পুলিশ। সেই জায়গায় এ বার সেই কাঁদানে গ্যাস আনবে সিআরপিএফ-ই।

    যে সব বুথে খুব বেশি কিংবা খুব কম ভোট পড়ে এবং একপক্ষ খুব বেশি ভোট পায়, সে সব বুথকে চিহ্নিত করা হয়েছে ক্রিটিকাল বুথ হিসেবে।

    নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, বিভিন্ন সূত্র ও জায়গা থেকে গোয়েন্দা-তথ্য পেয়ে 'ভালনারেলিবিটি'-র দৃষ্টিকোণ থেকে মোস্ট সেনসিটিভ বুথের তালিকা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, কিছু জায়গায় মহিলারা লাঠি-ঝাঁটা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আটকাতে পারেন, আবার কিছু জায়গায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন ('সার') প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া লোকজন জোট বেঁধে প্রতিবাদ জানাতে পারেন বলে গোয়েন্দা-তথ্য মিলেছে এবং মূলত সে কথা মাথায় রেখেই এই 'মোস্ট সেনসিটিভ' বুথের ভাবনা।

  • Link to this news (এই সময়)