রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় এ বার আপিল ট্রাইব্যুনালের কাজ নিয়ে প্রশ্ন। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের সামনে মৌখিক ভাবে বিষয়টি উত্থাপন করেন এক আইনজীবী। এর পরেই সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ট্রাইব্যুনালের কাজ নিয়ে তাঁরা এ দিনই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে রিপোর্ট চাইবে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Justice Surya Kant) এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর (Joymalya Bagchi) বেঞ্চের সামনে মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী দেবদত্ত কামাত (Devadatt Kamat) ট্রাইব্যুনালের কাজ নিয়ে অসন্তোষ মৌখিক ভাবে উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আপিল ট্রাইব্যুনালগুলি ঠিক ভাবে কাজ করছে না।
আইনজীবী কামাতের দাবি, ট্রাইব্যুনালগুলি আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্ব করতে দিচ্ছে না। এমনকী সরাসরি আবেদন জমা নেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। যার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বা অনলাইনের আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। আইনজীবীর কথায়, ‘সাংঘাতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আপিল ট্রাইব্যুনালগুলো ঠিক মতো কাজ করছে না। দূরদুরান্ত থেকে আসা নাগরিকদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।’
SIR সংক্রান্ত মামলায় বার বার আবেদন জমা পড়া নিয়ে এ দিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক...। প্রতিদিন আপনারা একের পর এক আবেদন করছেন।’ এর জবাবে আইনজীবী কামাত পুনরায় জানান যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সঠিক ভাবে পালন করা হচ্ছে না। এই দাবির সমর্থনে বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনও তিনি আদালতে পেশ করেন। এর পরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আমরা আজই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে একটি রিপোর্ট নেব।’ একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
এর আগে সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, ২১ এপ্রিল ও ২৭ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে ছাড়পত্র পাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। এই সময়ের মধ্যে যাঁরা ছাড়পত্র পাবেন না, তাঁরা এ বার ভোট দিতে পারবেন না । ট্রাইব্যুনালে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়পত্র পাওয়া ভোটাররা ২৩ এপ্রিল ভোট দিতে পারবেন। একই ভাবে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়পত্র পাওয়া ভোটাররা ২৯ এপ্রিল ভোটদান করতে পারবেন। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ২৯ এপ্রিল।