মিঠুন ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) নিয়ে অসন্তোষের কথা তুলে ধরলেন শিলিগুড়ি শহরের বিদ্বজ্জনেরা। রবিবার শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় দেওয়ালে টাঙানো হয়েছে ফ্লেক্স। সবকটিতেই লেখা— 'এই SIR নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই! আমি আমাদের সহ-নাগরিকদের নিয়ে চিন্তিত!'
লেখা এক হলেও প্রত্যেকটি ফ্লেক্সে বদলে গিয়েছে মুখ এবং নাম-পরিচয়। এর আগেও নানা ইস্যুতে শহরের বিশিষ্টজনেরা সরব হয়েছেন। ২০২৪-এ গোটা রাজ্যের পাশাপাশি শিলিগুড়ি শহরের দেওয়ালে 'নো ভোট টু বিজেপি' লেখা পোস্টার ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এ ভাবে একই বয়ানে প্রত্যেকের মুখচ্ছবি এবং পরিচয় ছাপিয়ে দেওয়ালে ফ্লেক্স টাঙানোর নজির শহরে তেমন নেই।
ফ্লেক্সগুলিতে যাঁদের মুখ এবং নাম দেখা যাচ্ছে, তাঁরা শহরের পরিচিত মুখ। সাংস্কৃতিক কর্মী দীপজ্যোতি চক্রবর্তী, সাহিত্যিক ও অধ্যাপিকা সুতপা সাহা, চিত্রশিল্পী ঝুলন সরকার, বাচিকশিল্পী অরুময় চক্রবর্তী, অর্জুন দাস বাউল, চিত্রশিল্পী মৌসুমী দে, হোটেল ব্যবসায়ী উজ্জ্বল ঘোষ–সহ বেশ কয়েক জন 'সার' নিয়ে এ ভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মূলত ১৫, ১৬ এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্লেক্সগুলি দেখা গেলেও খুব শিগগিরিই শহরের ৪৭টি ওয়ার্ডে এই ধরনের ফ্লেক্স টাঙানো হবে বলে খবর। এর পিছনে কি কোনও রাজনৈতিক দল রয়েছে?
দীপজ্যোতি কথা বলেন, 'আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নই। অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। আমরা তাতে ব্যথিত। পরিচিত এক জন ফোন করে বিষয়টি তুলে ধরার কথা বলেছিলেন। জানতাম না যে এর মধ্যেই ফ্লেক্স টাঙানো হয়ে যাবে।' উজ্জ্বলের বক্তব্য, 'যে প্রক্রিয়ায় অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটা না হলেই ভালো হতো। নাগরিক সমাজের দায়িত্বের কথা মাথায় রেখেই কোনও রকম বিতর্কে না গিয়ে আমরা এই বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছি।' আজ, সোমবার বেলা ১২টায় কাছারি রোডে গান্ধীমূর্তির নীচে এই বিশিষ্টজনেরা একত্রিত হয়ে 'সার' নিয়ে তাঁদের অসন্তোষের কথা তুলে ধরতে পারেন। বুদ্ধিজীবীদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিলিগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। তিনি বলেন, 'যে ভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাতে নাগরিক সমাজের এগিয়ে আসাই স্বাভাবিক।' বিষয়টি জানা নেই বলে মন্তব্য, বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের।