ভয়াবহ দুর্ঘটনা আসানসোল উত্তর থানার রেলপারে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুলিশের বাস গিয়ে ঢুকল গলিতে। অভিযোগ, পর পর অটো, দোকানে ধাক্কার পাশাপাশি সাত বছরের এক নাবালিকা-সহ চার জনকে ধাক্কা মারে বাসটি। রবিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বাসটিতে ভাঙচুরের পাশাপাশি চালককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন চালক। আসানসোল কমিশনারেটের ডিসি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস বলেন, ‘কী ভাবে দুর্ঘটনা হয়েছে তদন্ত করা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। সাত বছরের মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে মারধরের জেরে বাসের চালক গুরুতর আহত হন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ, দ্রুত গতিতে বাসটি আসছিল। তাতেই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি। একটি গলিতে ঢুকে পড়ে। এ দিকে রবিবার ওই এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। বরের গাড়ি-সহ একাধিক গাড়ি ছিল সেখানে। বাসটি পর পর ধাক্কা মারতে থাকে। মানুষ থেকে গাড়ি, দোকান, রক্ষা পায়নি কোনও কিছুই। সাত বছরের মেয়ে-সহ চার জনকে ধাক্কা মেরে বাসটি একটি টোটো ও অটোতে ধাক্কা মারে। এর পরে স্থানীয় কবরস্থানের পাঁচিলে ধাক্কা মেরে ক্ষান্ত হয়!
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাসের চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। বাসের সামনে থেকে মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যাতে নির্বাচনের আগে রেলপার অশান্ত হয়ে ওঠে।
জাবেদ আনসারি নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘যাঁর বাচ্চার এত বড় ক্ষতি হলো তাঁকে কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকার কী দিতে পারবে? মরতে তো হচ্ছে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকেই। খালি ভোটের জন্য নেতারা আসেন। আমাদের এ ভাবেই বিপদের মধ্যে ফেলে রেখে দেন নেতারা। কোনও ভোট হবে না এখানে।’
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলপাড়ে আসেন মলয় ঘটক। তিনি বলেন, ‘এখানে বাস কী ভাবে ঢুকল, সেটাই বুঝতে পারছি না। এখানে বাস ঢোকারই কথা নয়। একটি বাচ্চা-সহ কয়েক জন আহত হয়েছে। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশ বাসটি আটক করে তদন্ত শুরু করেছে।’