• ‘মৃত্যু নিয়ে নির্লজ্জ রাজনীতি বিজেপির’, অভিষেকের মুখে পঞ্চায়েত ভোটের আগের সেই ঘটনা...
    এই সময় | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করে বিজেপি, সোমবার পুরুলিয়ার বলরামপুরের সভা থেকে তোপ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটের আগে পুরুলিয়ার বলরামপুরে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমার নামে দুই বিজেপি কর্মীর। ভোটের আগে যা নিয়ে উত্তাল হয় রাজ্য। আট বছর পরে আরও এক ভোটের আগে উঠে এল সেই প্রসঙ্গ। অভিষেক অভিযোগ করেন, সে সময়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন অমিত শাহ। মৃতের পরিবারকে কথা দিয়েছিলেন, পরিবারের একজন চাকরি পাবেন। আজও সেই চাকরি হয়নি। উল্টে ওই পরিবারের লোকেরা ফোন করলে, এলাকার বিজেপি সাংসদ ফোন ধরেন না।

    অভিষেক বলেন, ‘২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটের আগে এই বলরামপুরে বিজেপির দুই কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা আমার মনে আছে। অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে বিজেপি নির্লজ্জ রাজনীতি করে বলরামপুরের মাটিকে অশান্ত করতে নেমেছিল। ২০১৯-এ বিজেপি জিতেছে। বলরামপুরে ২০২১ সালে খুব কম ব্যবধানে বিজেপি জিতেছে। ওরা মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করেছে, মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করেছে। ত্রিলোচন মাহাতো আর দুলাল কুমারের পরিবারকে বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এসে বলেছিলেন, বাড়ির একজন কেন্দ্রীয় কোনও দপ্তরে চাকরি পাবেন। ৮ বছর হয়ে গিয়েছে, আজও চাকরি হয়নি।’

    আট বছর পরে একটা দল যদি তার সৈনিককে ভুলে যায়, তা হলে আমজনতার জন্য কোনও কাজই সেই দল করতে পারে না, দাবি অভিষেকের। একই সঙ্গে এ বার বিজেপি যাঁকে প্রার্থী করেছে, সেই জলধর মাহাতোর পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

    অভিষেক বলেন, ‘আমি শুনেছি, এ বার যিনি এখানে প্রার্থী হয়েছেন, তিনি সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোর আপ্তসহায়ক। জ্যোতির্ময় মাহাতোকে নতুন গাড়ি ঘুষ দিয়ে প্রার্থিপদ নিয়েছেন বলেও শুনেছি। ঠিক ভুল জানি না। দিল্লির তল্পিবাহক জ্যোতির্ময় মাহাতো। তাঁর আপ্তসহায়ক জলধর মাহাতো। তাঁর অধীনে বলরামপুরবাসীকে থাকতে হবে? এই অপমান মানবেন আপনারা? দিল্লির ক্রীতদাসের আপ্তসহায়ককে আপনাদের মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

    হাওড়া-চক্রধরপুর এক্সপ্রেস, পুরুলিয়া এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের নিয়মিত দেরিতে আসা নিয়েও তোপ দাগেন অভিষেক। একজন সাংসদ সময় মতো নিজের জেলায় ট্রেনের পরিষেবা দিতে পারেন না, তিনি কী ভাবে এলাকায় জল, বাড়ির পরিষেবা দেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক।

    কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কুড়মি সম্প্রদায়কে বঞ্চনা, কুড়মালি ভাষাকে আজও স্বীকৃতি না দেওয়া, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রয়োগ করে আদিবাসীদের ঐতিহ্যে কশাঘাতের চেষ্টার অভিযোগও শোনা যায় অভিষেকের মুখে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে, তাদের বলব তৃণমূলে শান্তিও আছে, রামও আছে। শান্তিরাম মাহাতোই আমাদের প্রার্থী।’

  • Link to this news (এই সময়)