এই সময়, বাগদা: বাগদা বিধানসভার তিনদিকেই ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত। এই কেন্দ্রের নয় কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে কাঁটাতারবিহীন খোলা সীমান্ত। এই কেন্দ্রের উত্তর বয়রা গ্রামের কোনও বাড়ির উঠোন ভারতের মধ্যে থাকলেও বাড়ির সামনের রাস্তা বাংলাদেশে। আবার কারও শোবার ঘর বাংলাদেশের মধ্যে থাকলে রান্নাঘর রয়েছে ভারতের মধ্যে। কাঁটাতারবিহীন বাগদা সীমান্ত দিয়ে ভোটের সময়ে দুষ্কৃতীদের আসা যাওয়াও বাড়ে।
এ বার ভয়মুক্ত ভোট করাতে তৎপর হয়েছেন জেলার পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্তারা। বাগদা কেন্দ্রের সাধারণ ভোটারদের মনোবল বৃদ্ধি করতে রবিবার সীমান্তবর্তী বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন করেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া এবং বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত। তাঁদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বাগদা থানার পুলিশও ছিল। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণ ভোটারদের উৎসাহিত করেন।
এ দিন তাঁরা প্রথমে আসেন হেলেঞ্চায়। এর পর বাগদা পঞ্চায়েতের কাটাখালি এলাকায় সীমান্তঘেঁষা গ্রামে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। কাঁটাতার ঘেঁষা রাস্তা ধরে পৌঁছন মামাভাগ্নে গ্রামে। সেখানেও সাধারণ ভোটারদের মনোবল বৃদ্ধি করতে এলাকা পরিদর্শন করেন তাঁরা। সীমান্ত লাগোয়া স্পর্শকাতর এলাকায় রুট মার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। চলছে নাকা চেকিংও।
জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া বলেন, 'কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী জেলার সব কেন্দ্রেই ভোটের আগে পরিদর্শন করা হচ্ছে। আগের নির্বাচনগুলিতে বাগদার যে সব এলাকায় ভোটের আগে কিংবা পরে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।' পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, 'সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোনও অভিযোগ আসেনি। ভোট সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' বনগাঁ পুলিশ জেলায় এখনও পর্যন্ত ২৫টি জায়গায় নাকা চেকিং চলছে। এর মধ্যে ১১টি জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। প্রয়োজনে নাকা চেকিং পয়েন্ট বাড়ানো হবে।