• পর্যটন থেকে মৎস্য, মোদীর প্রতিশ্রুতিতে কটাক্ষ তৃণমূলের
    এই সময় | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, ঝাড়গ্রাম ও বেলদা: এক দিকে ঝাড়গ্রামের সভা থেকে জনজাতিদের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেন। ঝাড়গ্রামকে কেন্দ্র করে পর্যটন হাব গড়ার করার কথা বললেন। আর এক দিকে বেলদার সভায় রাজ্যে উন্নয়নের পথে বাধা হিসেবে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সরকারকে। রবিবার দুই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের দুই সভা থেকে এভাবেই এ বারের নিবার্চনে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য জনতার উদ্দেশে ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    এ দিন বিকেলে ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে ঝাড়গ্রাম জেলার চার বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাউ, প্রণত টুডু, রাজেশ মাহাতো, অমিয় কিন্তু সহ মোট সাত প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড থেকে রোডশো করে তিনটে নাগাদ সভাস্থলে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। বক্তৃতার শুরুতে বাংলায় বলেন, 'কেমন আছেন?' এর পরে তাঁর মন্তব্য, 'আপনারা তৃণমূল সরকারকে ১৫ বছর দিয়েছেন। তৃণমূলের নির্মম সরকার কী দিল? কী পেলেন? জনজাতি ক্ষেত্রগুলি কী পেল? শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার, কিছু পায়নি। সব বেহাল এখানে।'

    নির্বাচনে জিতলে কী করবে বিজেপি সে প্রসঙ্গে মোদী বলেন, 'আমাদের সরকার বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় ভাষা ঘোষণা করেছে। সাঁওতালি ভাষায় ভারতীয় সংবিধানের সংস্করণ প্রকাশ করেছে। কুড়মালি ভাষা নিয়েও ঘোষণা করেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বনধন কেন্দ্রের বিস্তার হবে, তাতে জনজাতি বোনদের রোজগার বাড়বে। ঝাড়গ্রাম অরণ্যসুন্দরী। এখানে হোম স্টে, ইকো টুরিজম বাড়বে। রেল সংযোগ বাড়াতে কেন্দ্র উদ্যোগী হয়েছে। বন্দে ভারত এবং আটটি অমৃত ভারতের সঙ্গে জোড়া হয়েছে তাকে।'

    এর পরেই অভিযোগ করেন, 'প্রকল্পের কাজ যাতে দ্রুত হয়, সে জন্য রাজ্য সরকারের সাহায্য দরকার। কিন্তু তৃণমূল কিছু করে না। তাই এখানে বিজেপির বিধায়কদের আনতে হবে। মা সাবিত্রী, কনকদুর্গাকে প্রণাম।' প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'ছোট ঘর তৈরি করতে হলেও তৃণমূলের সিন্ডিকেটের উপরে নির্ভর করতে হয়। তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়কেরা আপনাদের সমস্যা নিয়ে ভাবে না। এরা শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবে। তৃণমূলের সিন্ডিকেট বাংলায় বিজেপির কারখানা নষ্ট করেছে। আপনারা অন্ধকারে রয়েছেন। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের গাড়ি চমকাচ্ছে। আপনাদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। মোদী সঙ্কল্প করেছে, এখানকার কয়লা লুটকারীদের, আপনাদের যারা অন্ধকারে রাখে, তাদের ছাড়বে না। এটা মোদীর গ্যারান্টি।'

    তিনি বলেন, 'তৃণমূল বিদ্যুৎ লুট করছে। অন্য দিকে মোদী আপনাদের বিদ্যুতের বিল শূন্য করতে চায়। এ জন্য কার্যকর করা হয়েছে পিএম সূর্যগড় মুক্ত বিজলি যোজনা। একটি পরিবার প্রায় ৮০ হাজার টাকা করে পাবে। যাতে আপনারা ছাদে সোলার প্যানেল লাগাতে পারেন, নিজের বিদ্যুৎ নিজে জোগাতে পারেন। কিন্তু তৃণমূল এই যোজনা বাংলায় আনতে দিচ্ছে না। ওড়িশায় ৬০ হাজার পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে।' তাঁর প্রতিশ্রুতি, 'বাংলায় তৃণমূলের সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে। আলুচাষি, ধানচাষিদের শোষণ বন্ধ করব। ৩১০০ টাকা এমএসপি (ন্যূনতম সহায়ক মূল্য) ঘোষণা করা হয়েছে ধানচাষিদের জন্য। পিএম কিষাণ সম্মাননিধির জন্য ৬০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০০ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। মহিলাদের বছরে ৩৬ হাজার টাকা দেবে বিজেপি। মেয়েদের স্নাতক পড়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেবে। সুকন্যা সমৃদ্ধি দেবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য করা হবে।'

    বেলদার জনসভায় মোদী এক বছর আগে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভেজাল স্যালাইনের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ করেন তৃণমূলকে। তিনি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে মা এবং শিশুরাও হাসপাতালে সুরক্ষিত নয়। এখানকার মেডিক্যাল কলেজে ভেজাল স্যালাইন দেওয়ার কারণে এক মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে।' তাঁর আশ্বাস, 'বিজেপি সরকার গর্ভাবস্থা থেকে মায়েদের ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত দেয়। ক্যানসার থেকে জটিল রোগের চিকিৎসাতেও সহায়তা করে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে আয়ুস্মান যোজনা চালু করা হবে। যাতে বাংলার মহিলারাও ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। সাথে ১০০ টাকার ওষুধ ২০ টাকায় মিলবে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রচুর মাছ চাষের সুযোগ রয়েছে। এক দিকে যেমন জলাধার রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রচুর নদী এবং সমুদ্র। ডাবল ইঞ্জিন সরকার এলে নীল বিপ্লব ঘটাবে। বাংলাকে মাছ উৎপাদনে আত্মনির্ভর করবে।'

    এদিন মেদিনীপুর ও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সব প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্য রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণার আগেই তিনি পোডিয়ামে চলে যান। নিজেই সমস্ত প্রার্থীকে উঠে দাঁড়াতে বলেন। তারপর পোডিয়াম থেকে প্রার্থীদের কাছে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে হাত উপরে তুলে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তার পরে সমাবেশে আগত সবাইকে মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালানোর আবেদন জানান। শত শত ফ্ল্যাশ লাইট জ্বলে ওঠায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এটা বিজেপির জয়ের আলো। আর তৃণমূলের অন্ধকার।'

    নারায়ণগড়ের তৃণমূল প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতি বলেন, 'বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বললে যেখানে প্রাণে মেরে দেওয়ার ঘটনা ঘটে তাঁরা করবে বাংলার উন্নয়ন! এটা কুমিরের কান্না ছাড়া আর কী! প্রধানমন্ত্রী যাই বলুন, তৃণমূলকে চতুর্থবার ক্ষমতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে মানুষ।'

  • Link to this news (এই সময়)