রবিবার সন্ধ্যা। সপ্তাহান্তে ছুটির দোকানে তখন উপচে পড়ছে ভিড়। বারগুলির সব আসন ভর্তি, চলছে পুরোদমে খানা-পিনা। হঠাৎ নির্দেশ এল আর দু’ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হবে সব বার এবং মদের দোকান। তারপরেই কার্যত হুলস্থুল পড়ে যায় শহরে। রবিবার রায়গঞ্জের ঘটনা। ২৩ এপ্রিল, নির্বাচনের প্রথম দফায় যেখানে যেখানে ভোটগ্রহণ রয়েছে, সেখানে ভোটের ৯৬ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান ও বার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। সেই মতো নির্দেশ এসেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জেও।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তাঁদের কাছে হঠাৎ এই নির্দেশ আসে। রাত ৯টার মধ্যে সব বন্ধ করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যখন এই নির্দেশ হাতে এসেছে, তখন উপচে পড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। মাত্র দু’ঘণ্টায় সব গুটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ কী ভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে মাথায় হাত পড়ে যায় বিক্রেতাদের। কোথাও কোথাও দোকানের শাটার ফেলে দিয়ে ক্রেতাদের নির্দেশের কথা বলে দেওয়া হয়।
কিন্তু সমস্যায় পড়েন বারের মালিকেরা। ক্রেতাদের টেবিল থেকে ওঠানো, সব অর্ডার ডেলিভার করে, বিল মিটিয়ে বার বন্ধ করতে হিমসিম খেতে হয় তাঁদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রায়গঞ্জের এক বারের মালিক বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেসেজ আসে রাত ৯টার মধ্যে বার বন্ধ করতে হবে। তখন বারভর্তি কাস্টমার। বিক্রি বন্ধ করে, কার্যত তাঁদের হাতে পায়ে ধরে রিকোয়েস্ট করে বের করতে হয়।’
অভিযোগ, হঠাৎ মদের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক লাভ ঘরে তুলেছেন কালোবাজারিরা। কোথাও মদ না পেয়ে তাঁদের কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে মদ কিনতে হয়েছে তাঁদের। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন রায় বলেন, ‘কাজ থেকে এসে দেখি সব দোকান বন্ধ, বারও বন্ধ। যাঁরা ব্ল্যাকে বিক্রি করেন, তাঁরা দেখছি ৫০০ টাকার মদ ১০০০-১৫০০ টাকা চাইছেন।’ আরও এক বাসিন্দা কুশান সরকারে আফশোস, ‘আগে জানলে একটু বেশি করে কিনে রাখতাম। এটা একটু বাড়াবাড়ি হলো।’