আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের সুতি বিধানসভা কেন্দ্রে এবছর কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর মধ্যে এক অদ্ভুত লড়াই।
সুতির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস এবছরও ওই কেন্দ্রে শাসক দলের প্রার্থী। অন্যদিকে ইমানি বিশ্বাস একসময় যার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলেন সেই আলফাজউদ্দিন বিশ্বাস এবছর কংগ্রেসের প্রতীকে সুতি বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই করছেন। রাজনীতির 'গুরু- শিষ্যের' এই লড়াই ভোট প্রচারের অন্তিম লগ্নে সুতি বিধানসভা কেন্দ্রে সকলের কাছে আকর্ষণের এক কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুতি বিধানসভা কেন্দ্রে বরাবরই বাম এবং কংগ্রেস প্রার্থীদেরই দাপট থেকেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ইমানি বিশ্বাস সুতি বিধানসভায় প্রথম তৃণমূলের খাতা খুলতে সক্ষম হন। তবে বিধায়ক হিসেবে ইমানির যাত্রা শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরে। ২০১১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের প্রতীকে সুতি বিধানসভা আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মুর্শিদাবাদ জেলার একসময়ের বিখ্যাত বিড়ি ব্যবসায়ী ইমানি বিশ্বাসের সক্রিয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল একসময় সুতি-২ ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজউদ্দিন বিশ্বাসের হাত ধরে। পর্দার আড়ালে থেকে বিড়ি শ্রমিকদের ভোট নিয়ন্ত্রণ করা ইমানি বিশ্বাসকে ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নিজেদের দলের প্রার্থী করে। তার আগে ওই আসন থেকে পরপর দু'বার আরএসপি প্রার্থী জানে আলম মিঞাঁ জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু প্রথমবার নির্বাচনে লড়তে নেমেই আলফাজউদ্দিন বিশ্বাসের বুদ্ধি এবং ইমানি বিশ্বাসের বিড়ি শ্রমিকদের ভোট নিয়ন্ত্রণ করার 'যুগলবন্দী' কংগ্রেসকে জয় এনে দেয় ওই আসনে।
এরপর মুর্শিদাবাদে গঙ্গা এবং পদ্মা নদী দিয়ে জল যত গড়িয়েছে ততই ইমানি বিশ্বাসের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব বেড়েছে। ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের অনেক আগে দলবদল করেছিলেন ইমানি বিশ্বাস। তবে কংগ্রেস ছেড়ে যাননি আলফাজউদ্দিন ।
পর্দার পেছনে থেকে রাজনীতি করতে বেশি সাবলীল আলফাজউদ্দিন ২০১৬ সালের নির্বাচনেও সুতি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হুমায়ুন রেজার জয়ের পিছনে বড় ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন বলে দলের ভেতরে অনেকে মনে করেন।
তবে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর সুতির মাটি কামড়ে পড়েছিলেন ইমানি বিশ্বাস। সেখানে ধীরে ধীরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন তিনি তৈরি করেছেন। ইমানি বিশ্বাসের স্ত্রী বর্তমানে সুতি-২ সমিতির সভাপতি পদে রয়েছেন।
অন্যদিকে সাংগঠনিক শক্তিতে কিছু কম যান না কংগ্রেস প্রার্থী আলফাজউদ্দিন বিশ্বাস। তিনিও একসময় সুতি-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও দীর্ঘ সময় সুতি -২ ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ফলে সুতি বিধানসভা এলাকার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে দলের সংগঠনের খুঁটিনাটি তাঁর নখ দর্পনে।
গত ৫ বছরে সুতি বিধানসভায় এলাকায় শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নিয়ে তৃণমূল যে কাজ করেছে ইমানি বিশ্বাস সেই সবই ভোট প্রচারে তুলে ধরছেন। তবে ইমানির 'পথের কাঁটা' হতে পারেন তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়ার সঙ্গে ইমানি বিশ্বাসের সম্পর্ক একদম আদায় -কাঁচকলায়। তৃণমূল প্রার্থীর কোনও প্রচারে সভাধিপতিকে দেখতে পাওয়া যায়নি। তৃণমূল প্রার্থীর ভোট প্রচারে 'আমন্ত্রণ' না পেয়ে সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রুবিয়া।
ভোটের আগে সভাধিপতির 'ক্ষোভ' তৃণমূলের জন্য বড় বিপদ দিকে আনতে পারে বলে অনেকেরই মত। কংগ্রেস প্রার্থী আলফাজউদ্দিন বিশ্বাস নিজের প্রচারে এলাকার সমস্যা ,বিড়ি শ্রমিকদের দুরাবস্থা এবং ঐতিহ্যগতভাবে সুতির মাটি যে কংগ্রেসের তা সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তবে ভোটের ময়দানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নন। রাজনৈতিক গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক শিকেয় তুলে এখন দু'জনেই পরস্পরের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। তবে রাজনৈতিক গুরু শিষ্যের এই লড়াইয়ে সুতির সাধারণ ভোটাররা কোন দিকে যান তা জানতে সকলকে ৪- মে ইভিএম বাক্স খোলার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।