জয়ের সংস্থা থেকে স্ত্রীর নামে বিনা লাইসেন্সের পিস্তল কিনেছিল সোনা পাপ্পু
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
দক্ষিণ কলকাতায় ‘সোনা পাপ্পু’ নামে পরিচিত বিশ্বজিৎ পোদ্দার সম্প্রতি একাধিক অভিযোগে তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। বালিগঞ্জে একটি গোলমালের ঘটনার পর পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু এখনও অধরা। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি ৭ এমএম পিস্তল উদ্ধার করে, যা থেকে তদন্তে নতুন দিক খুলে যায়।
ইডির দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সোনা পাপ্পু তাঁর স্ত্রীর নামে ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি কিনেছিলেন। তদন্তে জানা যায়, অস্ত্রটি বিক্রি করেছিল বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারের সংস্থা। জয় বর্তমানে ইডি-র হেফাজতে রয়েছেন এবং সোমবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, সোনা পাপ্পু ও জয়ের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, সোনা পাপ্পুর স্ত্রী সোমার নামে থাকা একটি সংস্থার সঙ্গেও জয়ের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ।
ইডি সূত্রে খবর, গত ১ এপ্রিল বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সময় গড়িয়াহাট থানার পুলিশ ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেখা ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করে। যদিও সোনা পাপ্পুর স্ত্রী দাবি করেছেন, তাঁর নামে কোনও সংস্থা রয়েছে কি না বা আগ্নেয়াস্ত্রটি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। সেই সঙ্গে , স্বামীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, বিনা লাইসেন্সের ওই আগ্নেয়াস্ত্র স্ত্রীর নামেই কিনেছিলেন সোনা পাপ্পু।
অন্যদিকে, তদন্তে উঠে এসেছে যে, বেহালার অশ্বিনী দত্ত রোডে জয়ের একটি অফিস রয়েছে, সেখান থেকেই গত ১৫ জানুয়ারি সোমা পোদ্দারের নামে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫০টি কার্তুজ কেনা হয়। যে সংস্থা থেকে এই অস্ত্র কেনা হয়েছে, তার অন্যতম অংশীদার জয় নিজেই। সোনা পাপ্পুর সঙ্গে তাঁর একাধিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। এই লেনদেনের উদ্দেশ্য ও বৈধতা এখনও তদন্তাধীন।
রবিবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকেল নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে প্রথমে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ‘ফিট সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পর সোমবার দুপুরে তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করে ইডি।