রাজ্যে ভোটের মুখে শাসকদলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রবিবার রাতে আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর ঋষি রাজকে জরুরি তলব করেছিল ইডি। সোমবার তাঁকে দিল্লির ইডি দপ্তরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে হাজিরা দিলেন না। এনিয়ে দ্বিতীয়বার ইডির তলব এড়ালেন ঋষি রাজ। এবার তাহলে কোন পথে তদন্ত এগোবে ইডি? এনিয়ে প্রশ্ন থাকছে। তবে কি তলব এড়ানোয় এবার ঋষি রাজের বিরুদ্ধে আদালতে যাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা?
আইপ্যাকের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই মামলায় গত সপ্তাহে সংস্থার পরিচালক ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেপ্তার করার পর সোমবার আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর ঋষি রাজকে তলব করেছিল ইডি। সূত্রের খবর, মূলত সংস্থার আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগের তদন্তে এই তলব। আইপ্যাক নিয়ম বহির্ভূতভাবে কিছু লেনদেনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। এর জন্য রবিবার ঋষি রাজকে নোটিস পাঠিয়ে জানানো হয়, সোমবারই দিল্লির ইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে। ইডির এই ‘অতিসক্রিয়তা’য় রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশ।
সোমবার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আইপ্যাক ডিরেক্টর ঋষি রাজ দিল্লির ইডি অফিসে হাজিরা দেননি বলে খবর। এনিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি ইডির তলব এড়িয়েছেন। এর আগে যখন আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনকে কলকাতা থেকে দিল্লির ইডি দপ্তরে তলব করা হয়েছিল, তখনও একইসঙ্গে ঋষি রাজকেও ডাকা হয়। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। সোমবারও গেলেন না। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তবে কি এবার তৃতীয় সমন পাঠানো হবে তাঁকে? নাকি সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা? তা নিয়ে আলোচনা চলছে ইডির অন্দরে। ঋষি রাজকে এভাবে ইডি তলব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেপ্তারির পর আইপ্যাকের ডিরেক্টর ঋষি রাজকে তলব করেছে ইডি। সোমবারই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সংস্থার সদর দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে বলে নোটিস এসেছে। এটা কি শাসকের থিঙ্কট্যাঙ্কে ক্রমশ আঘাত?”