শান্তিপূর্ণ ভোট করতে বিকেল থেকেই ‘সিল’ নেপাল-ভুটান সীমান্ত, ড্রোনের মাধ্যমে চলছে নজরদারি
প্রতিদিন | ২০ এপ্রিল ২০২৬
আগামী সপ্তাহেই প্রথম দফার নির্বাচন। ২৩ এপ্রিল ভোট (West Bengal Assembly Election) রয়েছে উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের ১৫২টি আসনে। তার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হল ভুটান গেট। সীমান্ত পেরিয়ে দুষ্কৃতীদের আনাগোনা এবং আগ্নেয়াস্ত্র পাচার রুখতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এই গেট। একইভাবে সোমবার বিকেল থেকে ‘সিল’ করা হচ্ছে নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্তও। অসম, বিহার ও ঝাড়খন্ড বরাবর সীমানা। বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভুটানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও পর্যটকদের দেশে ফিরতে পারবেন না। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নাইট ভিশন ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফার নির্বাচন। তার মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্ত এবং অসম ও বিহার সংলগ্ন ৫৪টি বিধানসভা কেন্দ্র। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ২০ এপ্রিল সোমবার, বিকেল ৫টা থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং অঙ্গরাজ্যের সীমানা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং অঙ্গরাজ্যের সীমানা খুলবে ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায়। ওই সময়ে বন্ধ থাকবে উত্তরের প্রায় ৪৪ কিলোমিটার ভারত-ভুটান সীমান্ত। ভুটানের ফুন্টশোলিং, সামতসে এবং লামোইজিংখা রুট।
ভুটান সীমান্তের সুরক্ষায় এসএসবি মোতায়েন রয়েছে। নাকা চেকিংয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী। অবশ্য জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াত চলবে। বৈধ নথিপত্র দেখাতে হবে। ভুটানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক ও পর্যটকদের দেশে ফিরতে দেখাতে হবে নথিপত্র। নিত্যপ্রয়োজনীয় পচনশীল পণ্যবাহী যানবাহন তল্লাশির পর যাতায়াত করতে পারবে। ভুটান সীমান্তের মতো প্রথম দফার ভোটের আগে উত্তরের নেপাল সীমান্ত সিল করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সীমান্ত পারাপার, নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত এবং সমস্ত ধরনের আর্থিক লেনদেন, বাণিজ্যিক কাজ বন্ধ থাকবে।
তবে শুধু সীমান্ত সিল করাই নয়। দুষ্কৃতীদের আনাগোনা এবং আগ্নেয়াস্ত্র পাচার রুখতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি শুরু হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনে তো বটেই। নজরদারির জন্য রাতেও নাইট ভিশন ড্রোনের ব্যবস্থা রয়েছে। সোমবার বিকেল থেকেই নেপাল-ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্তের পাশাপাশি অসম ও বিহারের সীমানা এবং ঝাড়খন্ড বরাবর সীমানা সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের কর্তারা।
সীমান্তে সতর্কতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা শান্তিপূর্ণ রাখতে যাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে তাঁদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, এলাকায় যারা অশান্তি সৃষ্টি করে তাদের একজনকেও বাইরে রাখা যাবে না। অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে আটক করতে হবে এমনই নির্দেশ কমিশনের।