একসময়ে গণসঙ্গীত ছিল বাম শিবিরের অন্যতম সংস্কৃতি চর্চা। আর গণসঙ্গীত বলতে সলিল চৌধুরীর মতো প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বের কথা মনে পড়ে সকলের। আজ, ‘শূন্য’ মার্কশিট হাতেও সিপিএমের ভরসা সেই সলিল-গান। প্রচারে বেরিয়ে জলপাইগুড়ি সদর কেন্দ্রের প্রার্থী সিপিএম প্রার্থী দেবরাজ বর্মনের সুরেলা আহ্বান, ‘পথে এবার নামো সাথী’। মাউথ অর্গানে এই গান বাজিয়েই প্রচার সারছেন তিনি। আগামী ২৩ তারিখ প্রথম দফায় জলপাইগুড়িতে ভোট। তার আগে শেষবেলার প্রচারে এভাবেই ঝড় তুললেন সিপিএম প্রার্থী দেবরাজ।
জলপাইগুড়ি সদর আসনের সিপিএম প্রার্থী দেবরাজ বর্মন। ভোর ছ’টা নাগাদ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়ে পড়েন তিনি। নিত্যসঙ্গী তাঁর মাউথ অর্গান। রবিবার রাজবাড়ি পার্কে প্রাতভ্রমনকারীদের সঙ্গে প্রার্থীর আড্ডা জমে ওঠে মাউথ অর্গানের সুরে। গাছতলায় বসে তিনি মাউথ অর্গানে সুর তুললেন সলিল চৌধুরীর বিখ্যাত গান ‘পথে এবার নামো সাথী’। চারপাশে লোকজন জড়ো হয়ে তা শোনেন। বিখ্যাত গণসঙ্গীত শোনানোর পর সেখান থেকে বেরিয়ে বয়েল খানা বাজার, ভাটাখানা, ট্যাপামারি মোড়ে প্রচার করেন দেবরাজ বর্মন।
তবে প্রশ্ন থাকছেই, গণসঙ্গীত আবেগে শান দিয়ে অথবা নিজের শিল্পীসত্ত্বার জোরে কি ভোটবাক্সে খরা কাটাতে পারবেন জলপাইগুড়ির সিপিএম প্রার্থী? এমনিতেই জলপাইগুড়ির এসব এলাকা পদ্মের শক্ত ঘাঁটি। তা গুঁড়িয়ে দিতে ঘাসফুল শিবির মরিয়া। ছাব্বিশে এখানে যুযুধান লড়াই হবে তৃণমূল-বিজেপির। তার মাঝে লাল পার্টির দেবরাজ গান শুনিয়ে কতটা দাগ কাটতে পারবেন ভোটারদের মনে? সেসব নিয়ে অবশ্য ভাবিত নন দেবরাজ। তাঁর মতে, তিনি মাউথ অর্গান বাজার মনের আনন্দে। ভোটপ্রচারের জন্য জনতার দরবারে যেতে হচ্ছে বলে তাঁদের একটু সুর শুনিয়ে আনন্দ দিচ্ছেন মাত্র, এর বেশি কিছু নয়।