এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় সম্প্রতি জুডিশিয়াল অফিসারদের আটকে রেখে বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল মালদহের মোথাবাড়ি। এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছিল রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। এর জেরে মালদহে ভোটের আবহে বাড়তি নজর দিতে তৎপরতা শুরু করেছে কমিশন। সোমবার ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মালদহে আসেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
জেলা প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছে প্রথমে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি কন্ট্রোল রুম খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, প্রত্যেক জেলাতেই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ভোট পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হবে। যাঁরা নজরদারি চালাবেন তাঁদের ১০০ শতাংশ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মনোজ।
মনোজের সঙ্গে এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষক হিমাংশু কুমার লাল, মালদহের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ অন্যরা। পরে মনোজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, পোলিং বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। বুথে সিএপিএফের অনুমতি ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবে না। ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, যেখানে গন্ডগোল হবে সেখানে যাবেন। রাজ্য পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখবে। বিএলও থেকে শুরু করে কার কী কাজ আছে, নির্বাচন কমিশন কী ধরনের অ্যাকশন করবে তা সমস্ত রাজনৈতিক দলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি বেশি গন্ডগোল হয়, তাহলে রিপোলের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
নির্বাচনের আগে ওসিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে মনোজ জানান, দুই-এক জন ওসি সাসপেন্ড হয়েছেন। ওসিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে কমিশন। কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আছে তা খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, “আইনের উপর কেউ নেই। এবার শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছ ভোট হবে, কেউ ভয় করবেন না।”
মনোজ আরও জানান, পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্য়ে আসতে না পারলে অন্য কেউ তাঁর ভোট দিতে পারবেন না। ২১ তারিখ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে যাঁদের নাম নিষ্পত্তি হয়ে ভোটার তালিকায় উঠবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ। প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করবে কমিশন। প্রত্যেক জেলাতেই কন্ট্রোলরুম চালু হয়েছে। সেখান থেকে প্রত্যেক বুথ কভার হবে। প্রত্যেক বিধানসভায় তিনটি করে স্ক্রিন থাকবে। সেখানে সবসময় নজরদারি চলবে। যারা নজরদারি চালাবেন তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট দিতে হবে। লিখিতভাবে সেই রিপোর্ট জমা করতে হবে। বুথে সব সময় সিএপিএফ নজরদারি চালাবে। তিনি ফের একবার জানান, সিভিক ভলান্টিয়াররা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও ডিউটিতে থাকবে না। তারা সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করবেন।