সিঁথিতে সিঁদুর থাকলে চলবে না। তিলকও নৈব নৈব চ! টিপ পরা নিয়েও রয়েছে একাধিক বিধিনিষেধ। এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন ক্রু-এর পোশাক বিধিতে এ বার বিতর্কের ঝড়। নাসিকে TCS-এর BPO-তে ধর্মান্তরকরণ চক্রের আবহে লেন্সকার্ট (Lenskart)-এর পরে এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন ক্রু-এর পোশাক বিধি নিয়েও ক্ষোভপ্রকাশ নেটিজ়েনদের। বিতর্কের মুখে পড়ে সংস্থার দাবি, যে নথি ঘিরে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে তা পুরোনো এবং বর্তমানে আর প্রযোজ্য নয়।
সম্প্রতি অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায় এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন ক্রু-এর ‘ড্রেস কোড’ (Cabin Crew Dress Code) সংক্রান্ত নির্দেশিকা। সেখানে কেবিন ক্রু-এর জন্য নির্দিষ্ট গ্রুমিং গাইডলাইনে বলা হয়েছে যে, কপালে কোনও তিলক কাটা যাবে না। সিঁদুরও যেন না দেখা যায়। পরা যাবে না মঙ্গলসূত্র, চূড়া (সধবা বা বিবাহিত বোঝাতে যা পরা হয়)। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক পরার উপরও রয়েছে বিধিনিষেধ।
এর পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়ার নির্দেশিকায় সরাসরি টিপ পরাকে নিষিদ্ধ না করা হলেও তা ব্যবহারের জন্য রয়েছে বেশ কিছু শর্ত। নির্দেশিকা অনুযায়ী, শাড়ির সঙ্গে কেবিন ক্রু-রা টিপ পরতে পারেন। কিন্তু তা কোনও ভাবেই যেন ৫ মিলিমিটার সাইজ়ের থেকে বড় না হয়। তবে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ইউনিফর্মের সঙ্গে কোনও ভাবেই টিপ পরা যাবে না বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নির্দেশিকায়।
এই তথ্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। বহু নেটিজ়েন প্রশ্ন তোলেন, একটি ভারতীয় এয়ারলাইন্স কী ভাবে কর্মীদের ঐতিহ্যবাহী বা ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশে বাধা দিতে পারে। অনেকে এটিকে আবার সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার অভাব বলে কটাক্ষ করেন।
সমালোচনার ঝড়ের মুখে তড়িঘড়ি Air India জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া গাইডলাইনটি পুরোনো। বর্তমান নীতিতে কর্মীদের ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করা হয় এবং তারা চাইলে টিপ পরতেই পারেন। এয়ারলাইন্সের দাবি, এই ধরনের ভুল তথ্যের ভিত্তিতেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে সাম্প্রতিক Lenskart বিতর্কেরও। সেই ঘটনায়ও অভিযোগ উঠেছিল যে, নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতীক—যেমন হিজাব বা পাগড়ি—অনুমোদিত হলেও, টিপ বা তিলক পরা ওই সংস্থায় নিষিদ্ধ। যদিও পরবর্তীতে লেন্সকার্ট তাদের নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানায় যে, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল ভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পীযূষ বনসাল এই নিয়ে ক্ষমাও চান।
একাধিক সংস্থার পোশাক বিধি নিয়ে বিতর্ক নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে—কর্পোরেট সংস্থায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সীমা কোথায়? বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে, যেখানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় দৈনন্দিন জীবনচর্যার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত, সেখানে এই প্রশ্ন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। সব মিলিয়ে, Air India-র ‘টিপ’ বিতর্ক আপাতত সংস্থার ব্যাখ্যায় কিছুটা স্তিমিত হলেও, কর্পোরেট নীতি, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা যে এখানেই শেষ নয়, তা স্পষ্ট।