• নার্সিংহোমে ভয়াবহ আগুন
    আজকাল | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: পূর্ব বর্ধমানের নার্সিংহোমে আচমকা ভয়ানক আগুন। নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এই জেলার নবাবহাটের কাছাকাছি যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা তথাকথিত বেসরকারি হাসপাতালগুলির যথাযথ পরিকাঠামো আছে কি না? রাজ্যে ভোটের মুখে সোমবার বর্ধমানের ওই নার্সিংহোমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রোগী ও পরিজনরা। শেষ পর্যন্ত ২৫ জন রোগীকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও বড় বিপর্যয় ঘটার ষোলো আনা সম্ভাবনা ছিল।

     জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত অন্নপূর্ণা নার্সিংহোমে সোমবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করেই ঘটা এই ঘটনার জেরে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, চিকিৎসক এবং রোগীর পরিজনদের মধ্যে।

     খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। আগুন নেভানোর সময় এক দমকলকর্মী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    অগ্নিকাণ্ডের জেরে নার্সিংহোমে ভর্তি রোগীদের দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। পরিজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। 

    প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট না হলেও, দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শর্ট সার্কিট না কি অন্য কোনও কারণে আগুন লেগেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলের আশেপাশে ভিড় জমে যায়। 

    এই ঘটনার তত্ত্বতালাশ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে অনেক কথা। 

    দমকল কর্মী কাজল পাল জানান, এটা কোনও শর্ট সার্কিটের ঘটনা বলেই তাঁরা মনে করছেন। তিনি জানান, বৈদ্যুতিন সরঞ্জামগুলি নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দিকটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তাঁর কথায়, রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটলে রোগীরা মারা পড়তে পারতেন। 

    দমকল আধিকারিক সুমিত সুর জানান, সবটাই তদন্ত সাপেক্ষ। পরিকাঠামোর কী ঘাটতি ছিল বা ছিল না, খতিয়ে দেখা হবে। তিনি জানান, জেলার নানা জায়গা থেকে চারটি গাড়ি আনতে হয়েছে। বেসমেন্টে ল্যাব কাম অফিস থেকেই আগুন ছড়ায়। তাঁদের একজন কর্মী অসুস্থ। ওই নার্সিংহোমের কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।

    এই ঘটনার পর ‘‌মুখরক্ষা’‌র জন্য আশেপাশের নার্সিংহোমের লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁদের পক্ষে লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমের মালিক আনিসুর মণ্ডল জানান, রোগীদের বিভিন্ন নার্সিংহোমে সরানো গিয়েছে। তিনি পাল্টা দাবি করেন, পরিকাঠামো চেকিং করেই তো স্বাস্থ্য দপ্তর অনুমোদন দেয়। তাঁরা যখন ক্লিনচিট দিয়েছিল তখন পরিকাঠামোয় গলদ নেই। 

    অন্যদিকে আতঙ্কিত রোগীর পরিজন লালিবিবি মণ্ডল জানান, তাঁরা খুব ভয় পেয়ে যান। ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যায়। তাঁরা উপরে যেতেই পারছিলেন না। দমকল এসে জল ঢেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নার্সিংহোম মালিকদের একাংশ ঘোষণা করেছেন, রোগীদের এখন আর কোনও খরচ লাগবে না।

     কিন্তু তাতে পরিকাঠামো নিয়ে সমস্যার সমাধান হবে কি?

     
  • Link to this news (আজকাল)