আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ভোট ঘোষণা হওয়ার পর বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সঙ্গে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির রাজনৈতিক দল মিমের জোট হয়েছিল। দুই দলের প্রধান কলকাতায় বসে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করেছিলেন দুই রাজনৈতিক দল জোট করে রাজ্যের প্রায় ২০০ আসনে প্রার্থী দেবেন। আর এই প্রার্থীদের সমর্থনে মিম প্রধান এবং ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একসঙ্গে কমপক্ষে কুড়িটি সভা করবেন।
তবে সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের একটি বিতর্কিত ভিডিও সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর মিম প্রধান এবং তাঁর রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে ঘোষণা করে দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মিম, হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করছে না। তারা এই রাজ্যে একাই ভোটে লড়বে।
এই ঘোষণার পর রাজ্যে মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি তাঁর দলের প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার করতে এলেও সেখানে তাঁর প্রাক্তন জোট সঙ্গী হুমায়ুন কবীর বা তাঁর রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের দেখা যায়নি। এমনকি মিম প্রধান মুর্শিদাবাদে জনসভা করতে এসে একবারও হুমায়ুন কবীরের নাম পর্যন্ত নেননি। আসাদউদ্দিন ওয়েইসি তাঁর ভাষণে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন কেন তিনি ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সঙ্গে জোট ভেঙেছেন।
এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক জনসভায় হুমায়ুন কবীর, মিম দলের বিভিন্ন প্রার্থীর বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের কাছে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া এবং অন্য একাধিক অভিযোগ তুললেও আসাদউদ্দিন ওয়েইসির বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি। সোমবার বিকালে সকলকে চমকে দিয়ে একদা তাঁর দলের জোট শরিক মিমের কান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নেমে পড়লেন খোদ ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন।
সোমবার তিনি কান্দির হিজল এলাকায় একটি মঞ্চে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র ব্যানার ব্যবহার করে মিম দলের প্রার্থী মিসবাউল ইসলাম খান–এর সমর্থনে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। সেখানে মিম প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র বিভিন্ন পদাধিকারীরা। হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য শোনার জন্য সোমবার সন্ধে নাগাদ হিজলের মাঠে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান।
আজকের জনসভা থেকে কান্দির তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, কান্দিতে তিনি মিমের হয়ে প্রচার করতে আসেননি। মিমের প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে এসেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুন বলেন, ‘মিমের সঙ্গে জোট থাকায় আমরা কান্দি আসনটি তাদেরকে ছেড়েছিলাম। কান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের মিমের প্রার্থী মিসবাউলের সঙ্গে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রার্থীর ব্যবসার যিনি ম্যানেজার রয়েছেন, তাপস পাল, তাঁর সঙ্গেও আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দু’জনের প্রতি দুর্বলতা এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর দায়বদ্ধ থেকেই আমি আজ এখানে প্রচারে এসেছি।’ হুমায়ুন বলেন, ‘কান্দি বিধানসভা আসনে মিমের সঙ্গে আমাদের জোট করে লড়ার কথা ছিল। তাই আজ নিজের উদ্যোগে মিসবাউলের হয়ে আমি প্রচার করতে এসেছি। কান্দির মানুষের কাছে মিম প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার আবেদন রাখলাম।’
এর পাশাপাশি ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন আজ দাবি করেন ,‘রাজ্য জুড়ে মিম যত আসনে প্রার্থী দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। কান্দি, লালগোলা এবং বসিরহাটে দু’টি কেন্দ্রের প্রার্থী শাসক দল তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করার মত জায়গায় রয়েছেন।’