পাততাড়ি গোটাল I-PAC? তৃণমূলের অস্বীকারের পরদিনই সংস্থার একাধিক সিদ্ধান্তে জল্পনা
আজ তক | ২১ এপ্রিল ২০২৬
I-PAC বাংলায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বলে জল্পনা রটেছিল রবিবার। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছিল, সবটাই ভুয়ো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার I-PAC কর্মীদের চাকরি দেওয়ার কথাও বলেছেন। তার মধ্যেই এবার সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যপ্রক্রিয়ায় বিরাট পরিবর্তনের কথা জানানো হল। অবিলম্বে বাংলার বেশ কয়েকটি টিমকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অফিশিয়াল চ্যানেলগুলির জন্য নানা বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছে। ১৮ এপ্রিল থেকেই এই নির্দেশিতা জারি করেছে তৃণমূলের এই ভোটকুশলী সংস্থা।
'অন্তর্বর্তী আইনগত কারণ' দেখিয়ে I-PAC বাংলার কর্মীদের একাধিক নির্দেশিকা দিয়েছে। কিছু প্রোটোকল রাতারাতি পরিবর্তন করে I-PAC কর্মীদের জানিয়েছে, সংস্থার স্টেকহোল্ডাদের সঙ্গে কথোপকথনের জন্য অফিশিয়াল ইমেল আইডি ব্যবহার করা যাবে না।
তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থাকে হয়রান করার জন্যই BJP ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তুলেছিল জোড়াফুল শিবির। এমনকী, পশ্চিমবঙ্গে I-PAC তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করে দিয়েছে, এই খবরকেও ভিত্তিহীন বলেছে তৃণমূল। যদিও রবিবার থেকেই রটেছিল, ২০২১ সাল থেকে তৃণমূলের ভোটকুশলী হিসেবে কর্মরত I-PAC আচমকাই বাংলার কর্মীদের ২০ দিনের ছুটি দিয়েছে।
একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল মধ্যরাতে ইমেল পৌঁছয় কর্মীদের কাছে। অভ্যন্তরীণ সেই ইমেলে উদৃত ছিল, সংশ্লিষ্ট সংস্থা আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে পশ্চিমবঙ্গে কাজ ১১ মে পর্যন্ত স্থগিত থাকে। তারপর নতুন নির্দেশ জারি করা হবে।
এই দাবিকে খারিজ করে তৃণমূল জানায়, রাজ্যে I-PAC টিম পুরোদমে কাজ করছে এবং প্রচার কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ীই চলছে। BJP-কে নিশানা করে দল আরও জানায়, পশ্চিমবঙ্গ ভুল তথ্য বা ভয় দেখানোয় প্রভাবিত হবে না এবং ভোটাররা ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটে নিজেদের রায় দেবেন।
এই জোরাল প্রতিক্রিয়া এমন একটা সময়ে পাওয়া যায় যখন I-PAC এবং তার শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে আইনি ও তদন্তমূলক চাপ বাড়ছে। এর আগে ED কয়লা পাচার মামলায় সংস্থার কলকাতার দফতর এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনে তল্লাশি চালায়।
তল্লাশির সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান এবং অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি দলের প্রচারের সঙঅগে যুক্ত গোপন নির্বাচনী নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি পরে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয় এবং বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সম্প্রতি I-PAC এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে দিল্লিতে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ED হেফাজতে রয়েছেন। এই গ্রেফতারির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় দেখানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।