সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়
তিন বারের বিধায়ক। সেই সঙ্গে দু’বারের মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। এ বারও পুরুলিয়ার মানবাজার আসনে তিনিই তৃণমূলের প্রার্থী। লড়াই অন্যবারের তুলনায় যে এ বারে কঠিন তা মেনে নিচ্ছে এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব। কারণ গত পনেরো বছরের অ্যান্টি ইমকাম্বেন্সি বা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা।
মানবাজারের রয়েছে দীর্ঘ এক ইতিহাস অতীত। ইংরেজদের সময়ে পুরুলিয়া পরিচিত ছিল মানভূম জেলা নামে। সেই সময় বেশ কিছুদিনের জন্য জেলা সদর ছিল মানবাজার। প্রাচীন জনপদ মানবাজারের মানুষ উন্নয়ন নিয়ে বহু দিন ধরেই অসন্তুষ্ট। তাঁদের দাবি, জঙ্গলমহলের এই এলাকায় সে ভাবে কিছু উন্নয়ন হয়নি। যোগাযোগের দিক থেকে মারাত্মক ভাবে পিছিয়ে রয়েছে এই এলাকা। তেমনই চরম খারাপ অবস্থা স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ক্ষেত্রেও। এই ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই সন্ধ্যারানি টুডুর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী ময়না মুর্মু। এই একই বিষয়কে হাতিয়ার করে প্রচারের ময়দানে কংগ্রেস প্রার্থী সিতেন মান্ডি এবং সিপিএম প্রার্থী শান্তিমনি মুর্মু।
বিজেপির তরফ থেকে একদিকে যেমন তুমুল সমালোচনা করা হচ্ছে তৃণমূলের। তেমনই এলাকার মানুষকে দেখানো হচ্ছে স্বপ্ন। মানবাজারে সব থেকে বড় দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে মানবাজার হয়ে পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেলপথ। বিজেপির তরফ থেকে প্রচার পুস্তিকার ২ নং-এই বলা হয়েছে এই রেলপথের কথা। এই রেলপথ নিয়ে সার্ভে সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতায় এলে এক বছরের মধ্যে এই রেলপথের কাজ হয়ে যাবে বলে প্রকাশ্য জনসভায় দাবি করেছেন পুরুলিয়ার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। প্রচারে মানবাজার এলাকায় এসে শুভেন্দু অধিকারীও বলেছেন, ‘ডবল ইঞ্জিনের সরকার এলে এই কাজ হবে।’
একই সঙ্গে চলছে হাসপাতাল নিয়ে প্রচার। বিজেপির তরফে বলা হয়েছে মানবাজারে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কথা। এছাড়াও এলাকার ভেঙে পড়া সেতুগুলির কথাও তুলে ধরা হচ্ছে। তবে পাল্টা প্রচারে ঝড় তুলেছেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা সন্ধ্যারানি টুডু। তাঁর সময়ে হওয়া বিভিন্ন কাজের কথা তুলে ধরছেন তিনি। মানবাজারকে মহকুমা করা ছাড়াও দমকল এবং এসবিএসটিসির ডিপো তৈরি করার কথাও তাঁর প্রচারে রয়েছে। বিজেপির রেলপথ নির্মাণের আশ্বাসকে অবশ্য ভাঁওতা বলে দাবি করছেন তিনি। তার সঙ্গেই রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের সুফল ভোটবাক্সে মিলবে বলে মনে করছেন তিনি।