ভোটের দিন (West Bengal Assembly Election 2026) নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মীদের ফোন বন্ধ থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল (CEO Manoj Kumar Agarwal)। প্রথম দফার ভোটের আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সোমবার কোচবিহার সফরে গিয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, ‘দু’-তিন বার ফোন করে দেখা হবে। তার পরেই ব্যবস্থা।’
এ দিন সন্ধ্যায় কোচবিহারে পৌঁছন মনোজ। তার পরেই দফায় দফায় বৈঠক করেন তিনি। প্রথমেই সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে সেই সর্বদল বৈঠক। তার পরে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, ‘সবাইকে তাঁদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
সরকারি কর্মীদের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মনোজ বলেছেন, ‘নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মীদের কাছে যদি কোনও অভিযোগ জমা পড়ে, তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। এর অন্যথা হলে চলবে না।’ ভোটের দিন অনেক সরকারি কর্মীকেই ফোনে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ। মনোজের কথায়, ‘ফোন সব সময়ে খোলা রাখতে হবে।’
ফোন করে না পেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মনোজ। তাঁর কথায়, ‘দু’-তিন বার ফোন করে দেখা হবে। প্রয়োজনে সিইও অফিস থেকে খতিয়ে দেখব আমরা। তার পরে যে এলাকায় গণ্ডগোল হয়েছে, সেখানকার ওসি, মহকুমাশাসক বা জেশাশাসক - যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নির্বাচন কমিশন যে শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর, তাও এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘কোচবিহারে ১৪৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এসেছেন। ভোটের কিছুদিন পরেও তাঁরা থাকবেন।’ তাঁর সাফ কথা, ‘বুথের মধ্যে ভোটার ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’
উল্লেখ্য প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং রাঢ় বঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। একই সঙ্গে ভোট হবে মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার সব আসনেই।