ভোটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, বুথে নজরদারিতে নতুন যুগের সূচনা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে শুরু হতে চলেছে প্রযুক্তির নতুন অধ্যায়। এ বার প্রতিটি বুথে নজরদারির দায়িত্বে থাকছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত নিয়ন্ত্রণযোগ্য করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বুথে বসানো হবে নজরদারি ক্যামেরা, যা নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা কোনও অসঙ্গতি বা গোলমাল নিজে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে। কোথাও কোনও সমস্যা তৈরি হলে তা দ্রুত কমিশনের দপ্তরে পৌঁছে যাবে। ফলে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারবেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ব্যবস্থায় প্রথমে বুথের ভেতরে কোনও সমস্যা শনাক্ত করবে এআই। তারপর সেই তথ্য পৌঁছে যাবে মাইক্রো পর্যবেক্ষকদের কাছে। তাঁরা সেটি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক, রিটার্নিং অফিসার বা সেক্টর অফিসারের কাছে পাঠাবেন।
সমগ্র নির্বাচন পরিচালনার জন্য একাধিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ তৈরি করা হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারদের দপ্তরে যেমন থাকবে আলাদা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, তেমনই জেলা নির্বাচন আধিকারিক, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং কমিশনের সদর দপ্তর থেকেও এই নজরদারি চালানো হবে। বড় পর্দায় একসঙ্গে একাধিক বুথের ছবি দেখা যাবে। এআই-এর পাশাপাশি হাতে করেও সেই ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে।
প্রতিটি ক্যামেরার সঙ্গে ক্লাউড সংযোগ থাকবে। পাশাপাশি সংরক্ষণ ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে সারাদিনের ভিডিও ফুটেজ জমা রাখা যায়। নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি বুথে একসঙ্গে চারজনের বেশি ভোটার থাকতে পারবেন না। যদি তার বেশি কেউ ঢুকে পড়েন, তা সঙ্গে সঙ্গে এআই শনাক্ত করবে। একইভাবে ভোটযন্ত্রের কাছে অস্বাভাবিক ভিড় বা কোনও সমস্যা তৈরি হলেও এই প্রযুক্তির সাহায্যে তা অনায়াসে সনাক্ত করা যাবে।
তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যেখানে ভোটার তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা দেখা গিয়েছে, সেখানে এত সংবেদনশীল কাজে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তার পরেও নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি আরও বাড়বে। এখন দেখার, বাস্তবে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়।