প্রথম দফায় রাজ্যে ২ হাজার ১৯৩ কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম দফার বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা থেকে শুরু করে নজরদারি বাড়ানো—একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। পাশাপাশি ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মোট ২,১৯৩টি কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের আগে শেষ ৪৮ ঘণ্টায় কোনও অবৈধ জমায়েত করা যাবে না। এই নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধারা প্রয়োগের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। ভোটের দিন প্রতিটি বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও প্রচার, ভিড় বা অযাচিত জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেজন্য স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। শুধুমাত্র বৈধ ভোটারদেরই বুথ চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। অন্য কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের যৌথ টহলদারি জোরদার করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় বাইক ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা থাকায় সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। ভোট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে চালু হচ্ছে দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রথমে পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হবে, তারপর বুথ স্তরের আধিকারিক যাচাই করে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেবেন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনওরকম গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না।
প্রথম দফার ভোটে মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর দিনাজপুর— এই ছয় জেলাকে বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছে। এই জেলাগুলিকে অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে ভোটের দিন কোনওরকম অশান্তি না হয়, তার জন্যই এই কড়া পদক্ষেপ। পাশাপাশি যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ২,১৯৩টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ করবে। মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ একাধিক জেলায় এই দলগুলি মোতায়েন থাকবে। কোনও অশান্তির খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাই হবে এই টিমের প্রধান কাজ। ফলে ভোটের আগে এই কড়া নির্দেশিকা জারি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর, এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয় তার দিকে।