সরকারি মঞ্চে রাজনৈতিক প্রচার! মোদির বিরুদ্ধে কমিশনে চিঠি প্রাক্তন আমলা, সমাজকর্মী-সহ ৭০০ নাগরিকের
প্রতিদিন | ২১ এপ্রিল ২০২৬
গত ১৮ এপ্রিল জাতির উদ্দেশে ভাষণের নামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণ করে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছেন। এমন গুরুতর অভিযোগে দেশের ৭০০ বিশিষ্ট নাগরিকের স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগপত্র জমা পড়ল নির্বাচন কমিশনে। আগেই এই বিষয়ে সরব হয়েছিল কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএমের মতো রাজনৈতিক দলগুলি। বলা বাহুল্য, নতুন করে ৭০০ নাগরিকের চিঠিতে অস্বস্তি বাড়ল কেন্দ্রের শাসক দল এবং কমিশনের।
মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার জন্য লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পরে গত শনিবার রাতে দূরদর্শন ও আকাশবাণীতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন মোদি। এর পরেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ করেছিল, প্রধানমন্ত্রী সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালিয়েছেন। এবার একই অভিযোগ আনলেন প্রাক্তন আমলা, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ-সহ ৭০০ নাগরিক। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীদের বক্তব্য, মোদির ভাষণ দূরদর্শন এবং অল ইন্ডিয়া রেডিওর মতো সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত মঞ্চে সম্প্রচার করা হয়েছিল, যা সরকারি যন্ত্র ব্যবহার করে পক্ষপাতমূলক নির্বাচনী প্রচারের শামিল।
রবিবার এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছিল দুই বাম দল। তাদের প্রধান অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি লাগু রয়েছে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালিয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে আধ ঘণ্টার বক্তৃতায় ৫৯ বার কংগ্রেসের নাম করেছেন। বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছেন।
এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার হুগলির তারকেশ্বরের জনসভা থেকে তিনি এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার’ বলে তোপ দেগেছেন। তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মোদি নিজের দলের জন্য বেআইনি প্রচার চালাচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসও এর বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানাবে বলে জানান তিনি।