জাতির উদ্দেশে ভাষণেও রাজনীতি! মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করলেন ৭০০ নাগরিক
বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
নয়াদিল্লি: গত ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে আটটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ভাষণের মঞ্চকে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজনীতির জন্য ব্যবহার করেছেন বলে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। এবার জাতির উদ্দেশে ভাষণের মঞ্চকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে অভিযোগপত্র। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেই অভিযোগপত্রে সই করেছেন ৭০০ জনেরও বেশি নাগরিক। ইতিমধ্যেই কমিশনকে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছে সিপিএম ও সিপিআই।
কী বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে? সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করা এবং নতুন আসনের এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের সংবিধান সংশোধনী বিল আটকে দেওয়া নিয়ে ভাষণে মোদি বিরোধীদের দোষারোপ করেছেন। তাঁর সেই বক্তব্য দূরদর্শন, সংসদ টিভি ও অল ইন্ডিয়া রেডিও’র মতো সরকারি খরচে চলা গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সরকারি গণমাধ্যমের ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার করেছেন, তা আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এই ধরনের পদক্ষেপ ক্ষমতাসীন দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়। কারণ, বিরোধীরা সেই সুযোগ পান না। সেই দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আরজি জানিয়েছেন নাগরিকরা।
এদিকে, মোদির ভাষণ নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, মোদিজি তাঁর বক্তৃতায় ৫৯ বার কংগ্রেসের নাম নিয়েছেন। অথচ মহিলাদের নাম নিয়েছেন মাত্র কয়েক বার। জাতির উদ্দেশে দেওয়া সরকারি ভাষণকে রাজনৈতিক ভাষণে পরিণত করেছেন মোদি। আচরণবিধি চালু রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন। যা দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানের সঙ্গে বিদ্রুপের নামান্তর।