• আজ সময় শেষ, সুপ্রিম নির্দেশেও নিষ্পত্তি নিয়ে ধন্দ
    বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরও প্রথম দফার ১৫২ আসনের ভোটে ট্রাইবুনালে বিচারাধীন ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের ভাগ্য সেই তিমিরেই! দিন কয়েক আগেই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা ট্রাইবুনালে ভোটাধিকার ফিরে পেলে ভোটদানের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। কিন্তু সেই নির্দেশের পরও ধোঁয়াশা অব্যাহত। কারণ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের ওই নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে নিষ্পত্তি হওয়া ডিলিটেড ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির সময়সীমা ছিল সোমবার পর্যন্ত। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আদৌ কোনো আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা নিয়ে তথ্যই জানা যাচ্ছে না। ট্রাইবুনাল এবং কমিশন কোনো তরফেই এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এর মধ্যেই আবার নথি যাচাই করে ভোটার চিহ্নিত করার কাজে ট্রাইবুনালের কাজের হিসাব চায় সুপ্রিম কোর্ট। এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে রিপোর্ট চাওয়া হবে বলে সোমবার জানিয়ে দিয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। একইসঙ্গে আধার এবং পাসপোর্টের ভিত্তিতে আবেদন আগেভাগে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে জানিয়েছিল, ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির পর সেই তথ্য আসবে কমিশনে। যেসব ভোটার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে কমিশন। এই নির্দেশের পরই ট্রাইবুনালে ভিড় জমাতে শুরু করেন ডিলিটেড ভোটাররা। কিন্তু ট্রাইবুনালের দপ্তরে কোনো আবেদনকারীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, কোনো আইনজীবীও ট্রাইবুনালের দপ্তরে ঢুকতে পারেননি। অথচ জোকায় নিয়মিত ১৯টি বেঞ্চের কাজ চলছে বলে খবর। তবে আদৌ কোনো আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে কি? ধোঁয়াশা অব্যাহত। কারণ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ মতো তিন সদস্যের কমিটি গঠন হলেও কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত এসওপি প্রকাশ্যে আসেনি। 

    বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিককে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ট্রাইবুনালের ব্যাপারে কমিশনের হস্তক্ষেপের এক্তিয়ার নেই। তিনি বলেন, ‘যেভাবে নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য ট্রাইবুনাল থেকে আসবে, সেভাবেই তা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।’ মূল কথা, অন্ধকারেই ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা।
  • Link to this news (বর্তমান)