সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: লাইসেন্স ছাড়াই হিমঘরে আলুর প্যাকেট! বিষয়টি জানাজানি হতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হল হস্তক্ষেপ। হিমঘরে আলুর বস্তা ঢোকানো বন্ধ করে দেওয়া হল। এদিকে, এই ঘটনার পর হিমঘর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন কৃষকরা। দূরদূরান্ত থেকে গাড়িতে করে আলুর বস্তা নিয়ে এসে সমস্যায় পড়তে হয় চাষিদের। সোমবার এই ঘটনা ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় ময়নাগুড়ি ব্লকের রাজারহাট মোড় সংলগ্ন পূর্ব শিশুয়াবাড়ি গ্রামে সদ্য তৈরি হওয়া একটি হিমঘরে।
নতুন হিমঘরে আলু রাখা যাচ্ছে, এমন খবর পেয়ে ময়নাগুড়ি ব্লক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কাদোবাড়ি থেকে প্রচুর কৃষক এদিন চলে আসেন। প্রত্যেকের দাবি, হিমঘর কর্তৃপক্ষ তাঁদের বন্ড দিয়েছে। সেই মোতাবেক তাঁরা জানতে পারেন সোমবার থেকে আলুর প্যাকেট রাখা যাবে। এদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত হিমঘরে আলু রাখা হলেও তারপর বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কাদোবাড়ি থেকে আসা কৃষক মহম্মদ বাবু বলেন, আমি তিন হাজার বন্ড নিয়েছি। সোমবার আলুর প্যাকেট নিয়ে আসি। এমনিতেই এবার অকাল বৃষ্টির কারণে খেতে প্রচুর আলু নষ্ট হয়েছে। তারসঙ্গে গাড়ি ভাড়া করে আলুর প্যাকেট নিয়ে এসে জানতে পেলাম রাখা যাবে না। আমাদের মত কৃষকদের এখন রাস্তায় বসা ছাড়া উপায় নেই।
আলু চাষি ময়নাগুড়ির সরফরাজ আলি, রহিম ইসলাম, সঞ্জিত রায় বলেন, হিমঘর কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স না নিয়েই আলুর প্যাকেট রাখছিল। বেআইনি এই কাজের জন্য হিমঘর কর্তৃপক্ষ দায়ী। আমরা কী করে বুঝব ওদের কাছে নথিপত্র আছে কি না। এদিন আসতে বলা হয়েছিল। এখন আলু বোঝাই গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। দ্বিগুণ খরচ হল। বন্ড দেওয়ার সময় টাকা নিয়ে নিয়েছে হিমঘর কর্তৃপক্ষ। সেজন্য আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছি।
এদিকে, এদিন হিমঘর মালিক সঞ্জয় ঘোষকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তাঁকে ফোন করা হলে বলেন, আমার কাছে কাগজ রয়েছে। সেটা পাঠিয়ে দিচ্ছি হোয়াটসঅ্যাপে। কিন্তু এরপরেই তিনি মোবাইল বন্ধ করে দেন।
পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, হিমঘরে আলু রাখার লাইসেন্স কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। তাই সেখানে আলুর প্যাকেট রাখতে দেওয়া হয়নি। জলপাইগুড়ি কৃষি বিপণন দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, হিমঘরের মালিক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু ছাড়পত্র এখনও মেলেনি। • নিজস্ব চিত্র।