ভোট দিতে না পের ক্ষোভ ভোটকর্মীদের, বহরমপুরে জেলা মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের অফিসে বিক্ষোভ
বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, ডোমকল: পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে না পেরে ভোটকর্মীরা বিক্ষোভ দেখালেন বহরমপুরের জেলাশাসকের অফিসে। নির্বাচনের প্রশিক্ষণের সময় তাঁদের ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও সেদিন ভোট নেওয়া যায়নি। এরপর সোমবারও ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে পারেননি তাঁরা। উল্টে হয়রানির শিকার হন। সেই কারণে বহরমপুরের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক তথা জেলাশাসকের দপ্তর খুলতেই সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন ভোটকর্মীদের একাংশ।
জানা গিয়েছে, চারদিন আগে বহরমপুরের এই ভোটকর্মীদের দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণ ছিল। প্রশিক্ষণের পরেই তাঁদের ভোট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা সেদিন ভোট দিতে পারেননি। এরপর ভোট দেওয়ার জন্য টানা চারদিন ঘুরেছেন। আজ সকালেও কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পর জানতে পারেন, পোস্টাল ব্যালটের ভোট নিজের নিজের মহকুমায় গিয়ে দিতে হবে। এরপরই তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। জেলাশাসকের অফিসে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বহরমপুরের বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। তাঁর প্রশ্ন, ‘নির্বাচনে যদি ভোটকর্মীরাই অংশ নিতে না পারেন, তাহলে এই ভোটের মূল্য কী? তাহলে কীসের নির্বাচন কমিশন?’
এদিকে এই ঘটনায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী দাবি করেছেন, শাসকদল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা পরিকল্পিত ভাবে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানে বাধা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে অধীরবাবু উল্লেখ করেছেন, বহরমপুরের ৭২ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার অধিকারপ্রাপ্ত ভোটারদের, বিশেষ করে সার্ভিস ভোটার এবং নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং স্বাধীন ভাবে ভোটদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে ডোমকলেও পোস্টাল ব্যালট ইস্যু হওয়ার পর ভোট দিতে পারলেন না বিএলওরা। তালিকায় নাম না থাকায় ভোট দিতে পারেননি তাঁদের অনেকেই। সোমবার এই অভিযোগ ওঠে ডোমকল বালিকা বিদ্যাপীঠে। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখান বিএলওরা। প্রসাশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোট দেওয়ার জন্য ডোমকলে ডাকা হয়েছিল রানিনগর বিধানসভার বিএলওদের। ডোমকল বালিকা বিদ্যাপীঠের ঘরে চলছিল পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ। বিএলওদের অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, তাঁদের ভোট দিতে ডাকা হলেও পোস্টাল ভোটারের তালিকায় তাঁদের নাম নেই। তাঁরা বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে সেখানে যান প্রশাসনিক অধিকারিকরা। আবু রাকেশ সিদ্দিক নামের এক বিএলও বলেন, আমাদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য সোমবার ডোমকলে ডাকা হয়েছিল। আমরা ভোট দিতে গিয়ে দেখি, আমাদের বিধানসভার বিএলওদের নাম নেই তালিকায়। ফলে আমরা ভোট দিতে পারিনি। এদিকে আমাদের নামে পোস্টাল ব্যালট ইস্যু হয়েছে, ফলে বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগও নেই। আমরা সমস্যায় পড়েছি। আমাদের ওপর ভোটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। আর আমরাই ভোট দিতে পারছি না।
ডোমকলের এসডিও শুভঙ্কর বালা বলেন, যাঁদের ফর্ম ১২ গ্রহণ হয়েছে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। ওঁদের লিস্ট বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ভোট হচ্ছে। তবে এক বিএলওর দাবি, প্রশাসনিক মহলে জানাজানির পর যাঁরা প্রতিবাদ করছিলেন, প্রসাশনের তরফে তাঁদের কয়েকজনের নাম ও অন্যান্য তথ্য নিয়ে তাঁদের ভোটদানের বন্দোবস্ত করা হয়। কিন্তু তাঁরা তাতে রাজি হননি। তাঁরা চান, পোস্টাল ব্যালটে সবাইকে ভোট দিতে দেওয়া হোক।