পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: রাজনীতিতে সৌজন্য ও শালীনতা যে বিজেপির কাছে স্রেফ কথার কথা সিউড়ির আরটি মোড়ে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের ‘চড়-কাণ্ড’ তা ফের প্রমাণ করে দিল। দলেরই এক প্রবীণ নেতাকে প্রকাশ্য সভায় সপাটে চড় মারার ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে ক্ষোভে ফুঁসছে সিউড়ির সুশীল সমাজ। ক্ষুব্ধ আরএসএসের পুরনো কর্মীরাও। প্রবীণ ওই নেতাকে জগন্নাথবাবুর এভাবে আঘাত করা মোটেই ঠিক হয়নি, বলছেন অনেকে। জগন্নাথবাবুর ‘চড়-কাণ্ড’ তাঁর লড়াইকে আরও কঠিন করে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এনিয়ে অহেতুক জলঘোলা করা হচ্ছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
শনিবার সন্ধ্যায় শহরের আরটি মোড়ে রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি তথা প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় একটি পথসভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। সেইসময় ক্লান্ত শরীরে পাশে থাকা একটি চেয়ারে বসতে গিয়েছিলেন দলেরই প্রবীণ নেতা তথা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ জয় ভাণ্ডারী। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রার্থী। সজোরে চড় কষান ওই প্রবীণ নেতাকে। জনসমক্ষে দলের শীর্ষস্তরের নেতার ‘উদ্ধত’ আচরণে বিস্মিত উপস্থিত বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই স্তম্ভিত সাধারণ মানুষও। ব্যথিত আরএসএসের এক প্রবীণরাও। তাঁদের কথায়, ‘আমরা যে সংস্কৃতির কথা বলি, সেখানে প্রবীণদের সম্মান সবার আগে। কিন্তু জগন্নাথবাবু ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে সেই সংস্কারই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। যিনি নিজের দলের কর্মীদের মর্যাদা দিতে পারেন না, তিনি সিউড়ির জনগণের সেবক হবেন কীভাবে?’
এই ঘটনার পরই গত রবিবার জগন্নাথের অন্যতম ছায়াসঙ্গী তথা যুবমোর্চার নেতা শুভ গঙ্গোপাধ্যায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন। তাঁরও দাবি, বিজেপির এইসব নেতা কর্মীদের সম্মান দিতে জানেন না।
এই ঘটনাকে ভালো চোখে দেখছেন না শহরের বিশিষ্টরা। সিউড়ি শহরের এক চিকিত্সক বলেন, রাজনীতির ময়দানে লড়াই থাকবেই। কিন্তু ন্যূনতম সৌজন্যবোধ না থাকলে রাজনীতি কলুষিত হয়। শহরের এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, সিউড়ি সংস্কৃতির শহর। এখানে প্রকাশ্য সভায় এভাবে একজন প্রবীণ মানুষের গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জগন্নাথবাবু তো এখনো জেতেননি। তাতেই যদি এই রূপ হয়, জিতলে কী হবে?’ এনিয়ে বিজেপির অন্দরেও তীব্র ক্ষোভ শুরু হয়েছে। এক কর্মীর কথায়, ‘আমরা দিনের পর দিন আত্মত্যাগ করে লড়াই করছি। আর প্রার্থীর কাছ থেকে জুটছে মার আর লাঞ্ছনা?’ আর এক কর্মীর আশঙ্কা, ‘এই ঔদ্ধত্য আমাদের লড়াইকে কঠিন করে দিল। মানুষের কাছে আমরা কোন মুখে ভোট চাইব?’
এই ইস্যুতে বিজেপি প্রার্থীকে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘জগন্নাথবাবুর এই অহংকারই বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিজেপি সাধারণ মানুষকে কী চোখে দেখে।’ যদিও জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, এটা কোনও ইস্যুই নয়। অহেতুক জলঘোলা করা হচ্ছে। আমাদের দলের ঘটনা। আমরা নিজেরাই মিটিয়ে নিয়েছি। এনিয়ে তৃণমূলের এত লাফানোর কিছু নেই।
সিউড়ি শহর তৃণমূলের সহ সভাপতি রমারঞ্জন চট্টোপাধ্যায় বলেন, কর্মীরাই দলের মেরুদণ্ড। বিজেপি প্রার্থী সেই মেরুদণ্ডেই আঘাত করেছেন। সিউড়ির মানুষ ইভিএমে এর জবাব দেবে।