নিজস্ব প্রতিনিধি, সাঁইথিয়া ও সংবাদদাতা, নানুর: যোগী আদিত্যনাথের পর এবার দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এর রোডশোয়ে ভিড় হল না। হেভিওয়েট নেতাদের নামিয়েও বীরভূমের মাটিতে জনসমর্থনের খরা কাটাতে ব্যর্থ হল গেরুয়া শিবির। সোমবার নানুরের রোড শো থেকে শুরু করে সাঁইথিয়ার জনসভা, কোথাও তেমন ভিড় দেখা যায়নি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর প্রচার ঘিরে জেলা নেতৃত্বের প্রস্তুতিতে খামতি না থাকলেও সাধারণ মানুষের চূড়ান্ত অনীহা বিজেপির সাংগঠনিক কঙ্কালসার চেহারাটাই যেন ফের সামনে এনে দিল।
এদিন বেলা ১১টা ২০মিনিট নাগাদ নানুর পঞ্চায়েত সমিতির মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামে রাজনাথ সিংয়ের হেলিকপ্টার। সেখান থেকে নানুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। তারপর বাসস্ট্যান্ড থেকে ব্লক অফিস পর্যন্ত রোড শো শুরু হয়। রাস্তার দু’পাশ দড়ি দিয়ে ঘেরা থাকলেও সেখানে লোকজন ছিল যৎসামান্যই। নানুরের পর সাঁইথিয়ার ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণকান্ত সাহার সমর্থনে সভা করেন রাজনাথ। সেখানে কর্মীদের বসার জন্য কয়েক হাজার চেয়ার পাতা থাকলেও সভাস্থাল খাঁ খাঁ করছিল। সামনের সারিতে কিছু লোকজন থাকলেও পিছনের দিকের চেয়ার ছিল ফাঁকা।
এদিন তৃণমূলকে নিশানা করে রাজনাথ বলেন, ‘রাজ্যের মানুষ শাসকদলকে তিনবার সুযোগ দিয়েছে। উন্নয়নের জন্য ১৫ বছর সময় কম নয়। অথচ বাংলায় আজ কেবল ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ। একসময় দেশের অর্থনীতিতে বাংলার অবদান ছিল ১০ শতাংশ, যা আজ পাঁচ শতাংশের নীচে নেমে গিয়েছে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘একবার বাংলায় বিজেপি সরকার হতে দিন। তারপর দেখবেন, গুন্ডারা হয় ঘরে ঢুকে যাবে, নয় জেলে থাকবে, নয়তো উপরে চলে যাবে!’ তাঁর অভিযোগ, ‘রাজ্যে মহিলারা আজ সবথেকে বেশি অসুরক্ষিত। তাঁর আশ্বাস, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই বাংলায় নতুন সকাল আসবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বাঁচতে পারবেন।’ পাশাপাশি নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ হোক বা কাল, নারী সংরক্ষণ বিল পাশ হবেই।’ ভারতীয় জনতা পার্টি দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়েই বাংলায় আসছে বলে জানান তিনি।
বিজেপির এই ‘ফ্লপ শো’ নিয়ে চূড়ান্ত কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজনাথ সিং দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। পদমর্যাদায় তিনি বড় ঠিকই। কিন্তু বীরভূমের মাটিতে তিনি আজ চূড়ান্ত ব্যর্থ। আগে যোগী আদিত্যনাথের সভা ফ্লপ হয়েছিল। আজ রাজনাথের সভায় ফাঁকা চেয়ারগুলোই বুঝিয়ে দিল বীরভূমে বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই। বাইরে থেকে পর্যটক নেতা এনে প্রচার চালানো যায়, মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় না। বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবে।