প্রদীপ্ত দত্ত ও মানস রায়, বিনপুর ও সিমলাপাল: ‘গুজরাত লবি বাংলাকে দখল করতে চায়। বাংলার সভ্যতা সংস্কৃতিকে শেষ করতে চায়।’ সোমবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বিনপুরের কুচলীপাহড়ীর জনসভায় এসে এই ভাষাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন। তৃণমূল প্রার্থী বীরবাহা হাঁসদার সমর্থনে তিনি জনসভা করেন। তৃণমূল প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার আবেদন জানান। জঙ্গলমলের তালডাংরা ও রায়পুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীদের হয়েও এদিন তিনি জনসভা করেন। সেখান থেকেও বিজেপিকে কড়া আক্রমণ হেমন্ত।
রবিবার লালগড়ে তৃণমূল প্রার্থী মঙ্গল সোরেনের সমর্থনে হেমন্তবাবুর জনসভা করার কথা ছিল। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদি ঝাড়গ্রামে জনসভা শেষ করে গাড়ি গিয়ে হেলিপ্যাডে ফেরার সময় শহরের একটা দোকানে হঠাৎ ঢুকে পড়ে ঝালমুড়ি খান। প্রধানমন্ত্রী শহর ছাড়ার সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ায় দাঁতনের মোহনপুরে হেমন্তবাবু ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনের হেল্পিকপ্টারের ওড়া আটকে যায়। ফলে লালগড়ে তাঁরা আর পৌঁছাতে পারেনি। এদিন অবশ্য হেমন্তবাবুর সভাস্থলে পৌঁছাতে কোনো অসুবিধা হয়নি। তিনি তালডংরার সিমলাপালে ও বিনপুরে সভা করেন।
ঝাড়খণ্ডের বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে হেমন্তবাবু বিনপুরে বলেন, ঝাড়খণ্ড ও বাংলার রাজনৈতিক লড়াই এক। ওখানে আমাদের মুখ্য লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে। এখানেও সেই বিজেপি। পুরো দেশের শক্তি দিয়ে বিজেপি, আরএসএস এখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা থেকে মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীও এখানেই ঘুর ঘুর করছেন। মমতা দিদি একা সবার সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। বিজেপি ছল-বল-কৌশলে সারা দেশের দখল নিয়েছে। ঠিক সেই ভাবেই অবিজেপি রাজ্য দখল করতে চাইছে।
বিজেপিকে পকেটমার বলেও তিনি কটাক্ষ করেন। হেমন্তবাবু বলেন, এরা ডাকাত না, এরা পকেটমার। বাড়ি পৌঁছালে বুঝবেন আপনার পকেটের টাকা নেই। এরা কখনো সামনে থেকে আসে না। পিছন থেকে আক্রমণ চালায়। এদের উৎখাত করতে হবে।
জনসভায় আসা মানুষজনকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি জিতলে আপনার ভোট দেওয়ার অধিকার হারিয়ে যাবে। জীবনে আর কখনো ভোট দিতে পারবেন না। এই দেশ, সংবিধান, বাংলা এবং নিজেকে বাঁচানোর জন্য ২৩ এপ্রিল তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করুন।
সিমলাপাল হাইস্কুল মাঠের সভায় তালডাংরার তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবুর সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করেন। সভা থেকে বলেন, বাংলাকে গুজরাত করার চেষ্টা করছে, দুই গুজরাতি। বাংলায় বারবার চেষ্টা করেও বাংলায় বিজেপি হারের মুখ দেখেছে। নির্বাচনে বিজেপি বাংলা দখলে করতে এবার অগণতান্ত্রিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাংলায় ফের হারের মুখ দেখবে। সেই সঙ্গে বলেন, উজ্জ্বলা যোজনার সিলিন্ডার ফ্রিতে দেওয়ার কথা থাকলেও বিজেপি নেতাদের জিজ্ঞাসা করুন কেন ফ্রিতে সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। উল্টে ৪০০ টাকার সিলিন্ডার আজ ১২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দশ হাজার টাকা দিলেও প্রয়োজনে সিলিন্ডার মিলছে না। নোটবন্দি সহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার মতো সিলিন্ডারের লাইনে দাঁড় করিয়েছে মানুষকে। বিজেপি মুখে নারীদের সম্মানের কথা বললেও মহিলাদের সম্মানহননকারীরা বিজেপিতে যুক্ত রয়েছে। মহিলাদের স্বশক্তিকরণের নামে কুমীরের কান্না চলছে। ঝাড়খণ্ড থেকে ডবল ইঞ্জিনের সরকারকে আমরা প্রথম উৎখাত করেছি। এবারের নির্বাচনে বাংলা থেকেও বিজেপির শিকড় উৎখাত করে গুজরাতে ছুড়ে ফেলতে হবে।