• মহিষাদলে ডিজে, মাইকের দাপটে স্কুলের ক্লাস লাটে, পদ্ম প্রার্থীর সভা ঘিরে বিতর্ক
    বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, হলদিয়া ও কাঁথি: স্কুল চলাকালীনই তারস্বরে মাইক ও ডিজে বক্স বাজিয়ে নির্বাচনি প্রচার সভা করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। ওই সভার বক্তা ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সোমবার মহিষাদল বিধানসভার দ্বারিবেড়িয়া স্কুল মাঠে বিজেপির ওই সভা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবকরা। 

    এদিন বেলা ১১টা থেকে দ্বারিবেড়িয়ায় মহিষাদল বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুভাষচন্দ্র পাঁজার সমর্থনে নির্বাচনি সভা হয়। সভামঞ্চ থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে দ্বারিবেড়িয়া আদর্শ শিক্ষা সদন হাইস্কুল ও সারদামণি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। দু’›টি স্কুলে প্রায় সাড়ে চারশো পড়ুয়া। সভামঞ্চ ৫০ মিটার দূরে হলেও স্কুলের ঠিক পাশেই বিদ্যুতের খুঁটিতে টাঙানো ছিল মাইক। অভিযোগ, স্কুল শুরুর সময় থেকেই তারস্বরে মাইক বাজিয়ে চলতে থাকে নেতাদের বক্তৃতা ও প্রচারের গান। সভায় লোক টানতে গেরুয়া শিবির প্রচার করেছিল অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী আসবেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও মিঠুন আসার প্রচার হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যও মিঠুনকে এক ঝলক দেখার আগ্রহ ছিল। স্কুলের পড়ুয়াদের ক্লাস কার্যত এর ফলে লাটে ওঠে। পড়ুয়ারা স্কুলের ছাদে এসে ভিড় করতে থাকেন মহাগুরুর অপেক্ষায়। সভায় কে বা কারা আসছে তা নিয়েও কৌতুহল ছিল স্থানীয় মানুষের মধ্যে। 

    এদিন নীতিন নবীন হেলিকপ্টারে চেপে প্রথমে নামেন টাউনশিপে হেলিপ্যাড ময়দানে। সেখান থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গাড়ি চেপে যান দ্বারিবেড়িয়ায়। অনেকেই আশা করেছিলেন, নীতিন নবীনের সঙ্গে মিঠুনও আসবেন সভায়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ সভামঞ্চে একাই পৌঁছান নীতিন নবীন। তার আগে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের কথা ধৈর্য্য ধরে শুনছিলেন কর্মী, সমর্থকরা। কিন্তু সভার তাল কাটে মিঠুনকে দেখতে না পেয়ে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আসন ফাঁকা হতে শুরু করে। মিঠুনকে না দেখে হতাশ হন পদ্ম কর্মী, সমর্থকরা। 

    উল্টোদিকে, বিজেপির সভার জন্য কয়েকঘণ্টা স্কুলের পড়াশোনা শিকেয় উঠেছিল বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। তাঁরা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে এনিয়ে অভিযোগ করেছি। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য খুকুমণি সামন্ত বলেন, স্কুল চলাকালীন  এভাবে সভা করা উচিত হয়নি। এনিয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। 

    হলদিয়া উন্নয়ন ব্লক তৃণমূল সভাপতি অশোক মাইতি এই ঘটনার নিন্দা করেন। বিজেপি নেতা চন্দন সমন্ত বলেন, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে মাঠ না মেলায় বাধ্য হয়ে ওই মাঠেই সভা করতে হয়েছে। তবে তিনি বলেন, অভিভাবকরা যদি ক্ষুব্ধ  হয়ে থাকেন তাহলে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। 

    অন্যদিকে, মহিষাদলের পর এদিন দুপুরে এগরা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর সমর্থনেও শহরে রোড-শো করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সেখানে নীতিন বলেন, এবার পদ্মের খেলা শুরু হবে বাংলায়। মমতার সরকারের পতন কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা। এরাজ্যে সম্মানের সঙ্গে বিজেপি সরকার আসবে।
  • Link to this news (বর্তমান)