• বেলদায় প্রধানমন্ত্রীর সভা শেষে বেনজির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
    বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ​সংবাদদাতা, বেলদা: প্রধানমন্ত্রীর মেগা ইভেন্ট সফল করার লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে জানপ্রাণ লড়িয়েছিলেন নীচুতলার কর্মীরা। কিন্তু রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদায় নরেন্দ্র মোদির সভা শেষ হতেই যে ছবি সামনে এল, তাতে মুষড়ে পড়েছেন দলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা। প্রধানমন্ত্রী সভাস্থল ছাড়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পাসের দাবিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য লঙ্কাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেন জেলা বিজেপির শীর্ষ নেতারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, এক নেতার গায়ে হাত তো তোলা হলই, এমনকী বাঁশ নিয়ে আক্রমণও করা হল সভাস্থলেই। এই বেনজির বিশৃঙ্খলা সভার সমস্ত সাফল্যকে ম্লান করে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

    ​ঘটনার সূত্রপাত মঞ্চে ওঠার ভিআইপি পাসকে কেন্দ্র করে। নারায়ণগড় মধ্য মণ্ডলের প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি সমীরণ বাড়ুইয়ের অভিযোগ, অনুমোদিত তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পরিকল্পনা করে পাস দেওয়া হয়নি। এই ক্ষোভ থেকে তিনি সরাসরি জেলা বিজেপির কোষাধ্যক্ষ মনতোষ মণ্ডলের ওপর চড়াও হন। প্রকাশ্যেই মনতোষবাবুকে বাঁশ নিয়ে আক্রমণ করেন। আক্রান্ত নেতার দাবি, পাস সময়মতো ইস্যু করা হয়েছিল, কিন্তু সমীরণবাবু তা সংগ্রহ করতে না আসাতেই এই বিপত্তি। অন্যদিকে, সভার পেছনেই এরপর উত্তপ্ত বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন জেলা বিজেপির সভাপতি সমিত মণ্ডল ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মনোজ দে। মনোজবাবুর দাবি, যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের মঞ্চে বসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এই ঝামেলার মধ্যেই জেলা সভাপতির সমর্থনে সুর চড়ান মহিলা মোর্চার জেলা সভাপতি শম্পা মণ্ডল।

    ​নেতাদের এই কুরুচিকর কোন্দল দেখে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন দলের কর্মীরা। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের পরিশ্রমের পর প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক জনসভাকে ছাপিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শিরোনামে চলে আসা, কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না নিচুতলার কর্মীরা। ক্ষুব্ধ এক কর্মীর মতে, প্রধানমন্ত্রী যখন দেশ গড়ার বড় বড় বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন, তখন দলের পদাধিকারীরা যদি প্রকাশ্যে লাঠালাঠি করেন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা যায়। অপর এক কর্মীর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীর সভার রেকর্ড ভিড়কে যখন দল প্রচারের হাতিয়ার করতে পারত, তখন প্রকাশ্যে গন্ডগোল ‘দুধে চোনা ফেলে দেওয়ার’ মতো হল। সংগঠনের অন্দরে এই ফাটল দলের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

    ​এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। নারায়ণগড় বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতি বলেন যে, নরেন্দ্র মোদি বারবার ‘মোদির গ্যারান্টি’র কথা বলছেন। কিন্তু এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল যে এই গ্যারান্টি উন্নয়নের নয়, বরং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও চরম অশান্তির। প্রধানমন্ত্রীর সভায় যেখানে কড়া শৃঙ্খলা থাকার কথা, সেখানে বিজেপি নেতারা মারপিট করছেন, এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। মেগা ইভেন্টের শেষে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এখন জেলার রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)