রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, কাজলকান্তি কর্মকার, খাতড়া ও চন্দ্রকোণা: ভোট আসতেই বাংলায় ফের অতিসক্রিয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তৃণমূলের প্রার্থী, পার্টি অফিস থেকে পুলিশকর্তা— তল্লাশির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিদিন। এর পাশাপাশি জেলায় জেলায় চলছে টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা। বিজেপির এই দু’মুখো কৌশলের বিরুদ্ধে সোমবার গর্জে উঠলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরুলিয়ার বলরামপুর, বাঁকুড়ার খাতড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার জনসভা থেকে তিনি শুধু অভিযোগ তুলেই থামেননি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এজেন্সির গুন্ডামি আর টাকা ছড়িয়ে বাংলায় ভোট জেতা যায় না! খাতড়ায় সভাতেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বিজেপির টাকা বিলি নিয়ে সতর্ক করে দেন অভিষেক। বলেন, ‘আমি শুনেছি বিজেপি বাঁকুড়ায় টাকা বিলি করছে। রাতের অন্ধকারে ওরা অনেক কিছু বিলি করবে। বিজেপি কিছু দিলে নিয়ে নেবেন। ওটা বাঁকুড়ার টাকা। আপনাদের টাকা। ভোটের আগের রাতে টাকা দিয়ে ওরা এজেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে। ওদের হয়ে ভোট করানোর জন্যও বলবে। যা টাকা বলবে, তার দ্বিগুণ নেবেন। পাঁচ হাজার বললে দশ হাজার, দশ বললে কুড়ি। বিজেপির টাকা নেবেন আর তৃণমূলের হয়ে ভোট করাবেন।’
দু’দিন আগে তালডাংরার খালগ্রাম অঞ্চলে একটি চারচাকা গাড়ি আটক করেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। গাড়িতে থাকা ওড়িশার তিন বাসিন্দাকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। এরপরই তালডাংরা, ছাতনা সহ বাঁকুড়ার বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারি লজ-হোটেলে ঘাঁটি গেড়ে ভিনরাজ্যের লোকজন টাকা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও তা উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার। বলেছেন, ‘আমরা টাকা বিলিয়ে ভোট কিনতে যাই না। তৃণমূল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। পঞ্চায়েত সহ স্থানীয় নির্বাচনে ওরা কী করে, তা ভোটাররা জানে।’
সেই সাফাইতে অবশ্য বিশেষ কর্ণপাত করেননি অভিষেক। বিজেপিকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘ওরা রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। দলিতদের অধিকার ছিনিয়ে নেবে। এরাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করতে চায় বিজেপি। ওই আইন কার্যকর হলে তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ধর্মাচরণ, বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের স্বাধীনতা থাকবে না।’ একথা বলার পরেই তৃণমূলের সেনাপতি উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের কাছে জানতে চান, ‘ধরুন পাড়ায় কোনো সামগ্রী বিক্রি করতে দু’জন এসেছে। আপনারা কাকে ভরসা করবেন? যে একদিন মালপত্র বিক্রি করে দিল্লি পালিয়ে যাবে তাকে, নাকি যে বারো মাস আপনাদের এলাকাতেই থাকবে তাকে?’ উপস্থিত জনতা সমস্বরে জানায়, ‘যে সারাবছর আমাদের পাশে থাকবে, আমরা তাকেই চাই!’ অভিষেক বলেন, ‘তাহলে ২৩ এপ্রিল যতই গরম থাকুক না কেন, আপনারা ভোটের লাইনে গিয়ে দাঁড়াবেন। আমার ফোন নম্বর কাছে রেখে দেবেন। যখনই কোনো সমস্যা হবে ফোন করবেন।’
বলরামপুরেও গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করেছেন অভিষেক। বলেছেন, ‘বিজেপির শুধু কাজ হল কুড়মি ও আদিবাসীদের মধ্যে ঝগড়া লাগিয়ে দেওয়া। এই শত্রুকে নয়, এবার বন্ধুকে নির্বাচিত করতে হবে।’