নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, এলাকায় বেশি সময় দিতে হবে, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সেই নির্দেশকেই হাতিয়ার করে বসিরহাট উত্তরে প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল প্রার্থী তৌসিফুর রহমান। ‘আমি তোমাদেরই লোক’ এই বার্তাকে সামনে রেখে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। কোথাও ছোট বৈঠক, কোথাও চায়ের দোকানে আড্ডা, আবার কোথাও সরাসরি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে মানুষের সঙ্গে কথা। প্রচারের প্রতিটি মুহূর্তেই মাটির কাছাকাছি থাকার চেষ্টা স্পষ্ট। দলের ব্লক থেকে বুথস্তরের নেতৃত্বকেও সঙ্গে নিয়ে এই প্রচারকে আরও গতিশীল করে তুলেছেন তিনি। ভোট প্রচারের ধরনেও আনছেন আলাদা মাত্রা। একেবারে সাধারণ মানুষের ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ছেন তৌসিফুর। কারও উঠোনে বসে, কারও বারান্দায় দাঁড়িয়ে শুনছেন তাঁদের অভাব-অভিযোগ। খোঁজ নিচ্ছেন দৈনন্দিন সমস্যার। কোথাও জল নিকাশির সমস্যা, কোথাও রাস্তার অবস্থা, আবার কোথাও কাজের সুযোগ—প্রতিটি বিষয়ই মন দিয়ে শুনছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি এলাকায় তাঁকে ঘিরে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে যুব প্রজন্ম।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন রফিকুল ইসলাম। সেই নির্বাচনে তৃণমূল ৮৯ হাজার ৩৫১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়। এবার সেই জায়গায় প্রার্থী বদল করে দল ভরসা রেখেছে তৌসিফুর রহমানের উপর। বড় বিষয় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল বিজেপির তুলনায় ৮২ হাজার ৯৫৫ ভোটে এগিয়ে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এগুলি শাসক শিবিরকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের সামাজিক ও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটও নির্বাচনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মূলত, গ্রামীণ এলাকা হলেও শহুরে প্রভাবের ছোঁয়াও রয়েছে কিছু অংশে। উল্লেখযোগ্য, ভালো সংখ্যক মুসলিম ভোটার এখানে রয়েছেন, যা ভোটের ফল নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর। সমগ্র বাস্তবতাকে সামনে রেখেই তৌসিফুর রহমানের প্রচার কৌশল গড়ে উঠছে। তিনি বলেন, প্রতিটি জায়গাতেই মানুষের ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমাকে সবাই ঘরের ছেলে করে নিচ্ছে। একদিকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ—দু’য়ের মিশেলেই তিনি ভোটের লড়াইয়ে এগতে চাইছেন। এনিয়ে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, খেলা এখন অনেক বাকি। যতই চেষ্টা করুক তৃণমূল, মানুষ ওদের অত্যাচারে জর্জরিত। এখন তারা নিস্তার চাইছে।