• ইস্তাহারে বসিরহাট কলেজের নাম বদলের প্রস্তাব পদ্ম শিবিরের, সরগরম রাজনীতি
    বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বসিরহাট: ইস্তাহারে বসিরহাট কলেজের নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব করেছে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই এনিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি-বিরোধীরা বলছেন, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের মতো এবার নাম বদলের রাজনীতি বঙ্গেও শুরু করতে চাইছে গেরুয়াশিবির। যেমন ২০২৫-এর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির তারকা প্রার্থী মৈথিলী ঠাকুর ঘোষণা করেছিলেন যে, ভোটে জিতলে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের নাম আলিনগর থেকে বদলে দেওয়া হবে। এবার ’২৬-এর বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বসিরহাট দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক একই পথে হাঁটলেন। নির্বাচনি সংকল্পপত্রে জানালেন, তিনি জিতলে বসিরহাট কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হবে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কলেজ।

    বিজেপির এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে রীতিমতো সরগরম বসিরহাটের রাজনীতি। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। কলেজের নাম বদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রাক্তনীদের একাংশ। ১৯৮৭ সালে এই বসিরহাট কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন বাদুড়িয়ার সংস্কৃতি কর্মী সুব্রত গুপ্ত। তিনি বলেন, বিষয়টি শুনে আমার খুব খারাপ লাগছে। বসিরহাট কলেজ আমার মতো হাজার হাজার প্রাক্তনীর কাছে আবেগের বিষয়। ১৯৪৭ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাজার হাজার পড়ুয়া তাদের জীবনের দিশা পেয়েছেন। আর পরিবর্তন যদি করতেই হয় তাহলে নাম পরিবর্তন না করে মহাবিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হোক।

    বসিরহাটের নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন মুখোপাধ্যায় বলেন, এই বসিরহাট কলেজ গোটা দেশেই একটি অন্যতম মেধার মাইলস্টোন। আমি যতদূর খবর রাখি, ১৬টি বিষয়ে অনার্স ও ১৯টা বিষয়ে জেনারেল কোর্সে পড়ানো হয়। এটা এই এলাকার সবচেয়ে পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই এর নাম পরিবর্তনের বিষয়টা কেউ মেনে নেবেন বলে আমার মনে হয় না।

    ২০১০ সালে এই কলেজ থেকেই বাংলায় অনার্স নিয়ে সম্মানের সঙ্গে পাশ করা ইমরান হোসেন বলেন, বসিরহাট কলেজ আমার মতো শতশত প্রাক্তনীর কাছে একটা আবেগের নাম। ভারতীয় জনতা পার্টির যে প্রার্থী কলেজের নাম বদল করার সমর্থনে প্রচার করছেন, আসলে তিনি বসিরহাটকে ভালবাসেন না। যদি ভালবাসতেন, তাহলে নির্বাচনি লিফলেটে এই কথা লিখতেই পারতেন না। আমাদের কলেজ ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ন্যাক) থেকে ‘এ গ্রেড’-এর তকমা পেয়েছে। এটা আমাদের কাছে রীতিমতো গর্বের। আমি অনুরোধ করব, লড়াইটা রাজনীতির ময়দানেই হোক। দয়া করে আমাদের গর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এর মধ্যে টানবেন না।

    এই বিষয়ে বসিরহাটের দক্ষিণের বিধায়ক ডাঃ সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ৭৫ বছরের ঐতিহ্য বহন করা একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বসিরহাট কলেজ। এখানে রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের মোকাবিলা না করতে পেরে, বিজেপি জোর করে উত্তরপ্রদেশ, বিহারের বিজেপি সরকারের মতো এখানেও নাম বদলের রাজনীতি করতে চাইছে। তবে তারা যেন ভুলে না যায়, এটা বাংলা। এটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজি নজরুলের পিঠস্থান। মানুষ এর যোগ্য জবাব ইভিএম-এর মাধ্যমেই দেবে। সেটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
  • Link to this news (বর্তমান)