• জোড়াফুলের ফল আরও ভালো হবে, আত্মবিশ্বাসী রায়দিঘির বাংলার স্যার, আইএসএফকে সঙ্গে নিয়ে লড়াইয়ে কান্তি-পুত্র
    বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • সোহম কর, রায়দিঘি: গ্রামবাংলায় খেলার রকমসকম বদলেছে। কয়েক বছর আগেও গ্রামের চায়ের দোকানের দাওয়ায় তাস খেলতে দেখা যেত। এখন সেই সব দোকানের অদূরে বসে থাকে একদল ছেলে। তাদের মুখে পড়ে ফোনের আলো। ফোন থেকে ভেসে আসে বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ার শব্দ! স্মার্ট ফোনে ‘খেলা’র নেশায় বুঁদ তাঁরা! রায়দিঘি যাওয়ার মুখে ঢোলাহাটে এমনই দৃশ্য নজরে এল। বদলে যাওয়া ‘খেলা’র নাগাল পেয়েছে তৃণমূলও। রাঘদিঘিতে কি ‘দুরন্ত খেলা’ হবে? ২০১১ সালে এই কেন্দ্র তৈরি হওয়া থেকে তো তাই হচ্ছে! যদিও এ বছর প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল। বিজেপির প্রার্থীও বদল হয়েছে। সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ও প্রার্থী হননি। সেই জায়গায় এসেছেন তাঁরই ছেলে সাম্য গঙ্গোপাধ্যায়।

    সিপিএম কি রায়দিঘিতে সেভাবে আর আছে? ২০২১ সালে তারা পেয়েছিল ১৫ শতাংশ ভোট। তৃণমূল ৪৮ শতাংশ এবং বিজেপি ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। রায়দিঘির এক আইএসএফ নেতা বলছিলেন, ‘আমরা আগে সিপিএম করতাম। এখন আর নেতা নেই। আমরা এখন ভাইজানের (নৌশাদ সিদ্দিকি) পার্টি করি।’ কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়? নামটা শুনলেই এলাকার মানুষ সমীহ করেন। সিপিএমের কে দাঁড়িয়েছে? উত্তর আসে ‘কান্তিবাবুর ছেলে’। কিছুদিন আগেই ঢোলাহাটে আইএসএফ ও সিপিএমের যৌথ সভা হল। সেখানে নৌশাদ বললেন, ‘ওই আসন তারাই দাবি করতেন। কিন্তু পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকি বলেছিলেন, ওটা কান্তিবাবুর জন্য ছেড়ে দাও। সাম্য আমাদেরই প্রার্থী। শুধু চিহ্ন আলাদা।’ এত হিসাবের ধার ধারেন না তৃণমূলের প্রার্থী, বাংলার স্যর তাপস মণ্ডল। তিনি মনে করেন, লড়াই তৃণমূল ও বিজেপির। তাপসবাবুর আরও একটি পরিচয় হল, তিনি একজন নাট্যকর্মী। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘আগের চেয়ে ফল অনেক ভালো হবে। মানুষের উচ্ছ্বাস, দেখেই বুঝতে পারছি।’ প্রার্থী বদলের প্রভাব পড়বে না? তাপসবাবু বলছেন, ‘এখানে তার প্রভাব পড়েনি।’ 

    তাপসবাবু বলছেন, ‘প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। জিতে এলে পলিটেকনিক কলেজ, নদীবাঁধের ভাঙন রোধের দিকে নজর দেব। এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা জয়নগর-রায়দিঘি রেলপথ। সেই চেষ্টাও করব।’ এখানে বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা। তিনিও জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। বামপ্রার্থী সাম্য বলছিলেন, ‘মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। রায়দিঘির মাটি লাল ঝাণ্ডার। বিজেপিকে রুখে তৃণমূলকে আমরাই হারাব। সঙ্গে আইএসএফ রয়েছে। বিজেপির প্রার্থী আগে তৃণমূল করতেন। দুর্নীতি থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে তাঁর হাতযশ রয়েছে।’ কিন্তু সাম্য যেন বাবা ছাড়া চলতেই পারেন না! সাম্যর পোস্টারে উজ্জ্বল উপস্থিতি নৌশাদ ও কান্তির। এ ব্যাপারে সাম্য বলেন, ‘কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় শুধু আমার বাবা নন। উনি আমার ও সুন্দরবনের নেতা। উনি আমার বাবা, এটা বাড়তি লাভ।’ 

    খেলা এখন মাঠ থেকে মোবাইলে এসেছে ঠিকই। তবে একটা সময় ময়দানে অবাধ যাতায়াত ছিল তাপসবাবুর। ফুটবল খেলেছেন, রেফারিও ছিলেন। এখন তিনি রাজনীতির মাঠে। এই মাঠে তিনিই স্ট্রাইকার হয়ে গোল দিতে চান।
  • Link to this news (বর্তমান)