নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ভোট মরশুমে গঙ্গাপাড়ের জনপদ বলাগড়ে ফের চর্চায় এসেছে ভাঙন। বস্তুত, তৃণমূল ভাঙন ইস্যুকে নিয়ে বিজেপির পিঠ প্রায় দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। সেখানেই বলাগড়ের গঙ্গায় বন্দর গড়ার প্রসঙ্গকে সামনে রেখে খাপ খুলতে চেষ্টা করছে বিজেপি। ফলে, একদিকে গঙ্গাই হয়ে উঠছে বলাগড়ের ভোট রাজনীতির অন্যতম চরিত্র। এদিকে, গঙ্গা-ভাঙন ও গঙ্গা-বন্দর নিয়ে লড়াইয়ে বিজেপিকে সমালোচনায় বিঁধেছে সিপিএম। তাতে কার্যত একঘরে হয়ে যাচ্ছে বিজেপির বন্দর-কেন্দ্রিক প্রচার। এই অবস্থায় আগামী ২৩ এপ্রিল অমিত শাহকে এনে বলাগড়ের সংকট থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি।
এনিয়ে বলাগড়ের তৃণমূল প্রার্থী তথা হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, গত ১৩ বছর ধরে বলাগড়ের ভাঙন নিয়ে সামান্য পদক্ষেপও করেনি বিজেপি। কেন্দ্রে যেমন বিজেপি সরকার আছে, তেমনই বলাগড়ে বিজেপির সাংসদ ছিলেন। তিনি একটি পয়সাও ভাঙন রোধের জন্য ব্যয় করেননি। বলাগড়ের মানুষ ভাঙনের কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের কাছে এসে এখন নদীবন্দরের গল্প শোনাচ্ছে বিজেপি। আমরা জেলা পরিষদ ও রাজ্য সরকারের তরফে যতটা পেরেছি, কাজ করেছি। গুপ্তিপাড়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান বিশ্বজিৎ নাগ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন রুখতে কাজ করছেন। তিনি বলেন, বিজেপির সাংসদ লোকসভায় বিষয়টি কখনও তোলেননি। একবার নদী কমিশন এসেছিল। সেটাও আমরা চিঠি-চাপাটি করেছিলাম তাই। কিন্তু কাজ কিছু করেনি। আমাদের শ্মশান, ফেরিঘাট পর্যন্ত বিপন্ন। সেচদপ্তরের সাহায্যে কিছু কাজ আমরা করতে পেরেছি। তাতেই কিছুটা জনপদ, চাষের জমি রক্ষা পেয়েছে।
বিজেপি নেত্রী তথা বলাগড়ের প্রার্থী সুমনা সরকার বলেন, গঙ্গাভাঙন রোখার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে উদ্যোগের অভাব ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের টাকা এরাজ্যে নয়ছয় করা হয়। আমরা ক্ষমতায় এলে ভাঙন রুখতে কাজ করব। আর বলাগড়ে নদীবন্দর তৈরি হলে এলাকার অর্থনীতি বদলে যাবে। সেটা বলাগড়ের মানুষের জন্য আশীর্বাদ প্রমাণিত হবে। সিপিএম নেতা তথা প্রার্থী বিকাশ গোলদার বলেন, নদীবন্দর নিয়ে ২০২১ সাল থেকে কুমিরছানা দেখাচ্ছে বিজেপি। আমরাও মনে করি, আগে নদীভাঙন রুখে দেওয়া প্রয়োজন। এনিয়ে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ কোনো পদক্ষেপ করেননি। মালদহের বৈষ্ণবনগরেও ভাঙন আছে। সেখানে ভাঙনে কবলে বিজেপির বিধায়কের বসতভিটে তলিয়ে গিয়েছিল। তাও কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পদক্ষেপ করেনি। বিজেপি ভোট নিতে শুধু ভাঁওতা দেয়। তবে রাজ্য সরকারের তরফেও ভাঙন নিয়ে বাড়তি উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল।
বহু বছর ধরে হুগলির বলাগড়ে ভাঙন একটি বড়ো সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এনিয়ে মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন। যা রাজ্য সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, ২০১৯ সাল থেকে বিজেপি লাগাতার বলাগড়ে ভাঙন রুখে দেওয়ার দাবি নিয়ে প্রচার করেছে। আর এই প্রথমবার ভাঙনের থেকেই তাঁদের মুখে নদীবন্দর গড়ার গল্প বেশি শোনা যাচ্ছে। আর তাতেই ভোট মরশুমে তরজা তুঙ্গে উঠেছে।