• জাতীয় শিক্ষানীতির ফাঁক, ভালো নম্বর পেলেও বদলাতে হতেই পারে কলেজ
    বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি যে বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে না দেখেই দেশে চালু হয়েছে, তা ফের একবার প্রমাণিত হল। এখন এমন পরিস্থিতি, ভালো নম্বর পেয়ে কোনো পড়ুয়া যদি অনার্স উইথ রিসার্চ কোর্স করতে চান, তাহলে তাঁকে প্রতিষ্ঠানই পরিবর্তন করতে পারে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পড়ুয়াদের সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বৈষম্য থেকে বাঁচাতে সর্বক্ষেত্রেই জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করতে চলেছে। সোমবার এ নিয়ে একটি বৈঠকও ছিল। তাতে প্রাথমিকভাবে যা উঠে এসেছে, সেক্ষেত্রে পড়ুয়াদের কলেজ ছাড়া না হয়ে উপায় নেই।

    এরকম পরিস্থিতি কেন তৈরি হল? জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, কোনো বিষয়ে যদি অন্তত দুজন পিএইচ ডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক না-থাকেন, তাহলে সেই বিষয়ে অনার্স উইথ রিসার্চ কোর্সটির অনুমোদন দেওয়া যাবে না। এরকম বহু কলেজে বহু বিষয় রয়েছে যেখানে পিএইচ ডি ডিগ্রিধারী সহকারী অধ্যাপক তো বটেই, স্থায়ী শিক্ষকই নেই। স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স (স্যাক্ট) দিয়ে কোর্স চালাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদেরও পিএইচ ডি ডিগ্রি নেই। শিক্ষামহলের একাংশের বক্তব্য, বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে না দেখে কলেজ এবং পড়ুয়াদের অন্ধকারে ঠেলে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করা হয়েছে। তার ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিন অধ্যক্ষরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষক সংখ্যা এবং বিষয়ভিত্তিক পিএইচ ডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যার রিপোর্ট তুলে দিয়েছেন। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই কোর্স চালু করতে হবে। তাই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রায় দেড়শো কলেজের মধ্যে কতগুলি প্রতিষ্ঠান কোন কোন বিষয়ের জন্য অনার্স উইথ রিসার্চ কোর্সটির অনুমোদন পাবে, তা দ্রুত ঠিক করা প্রয়োজন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এবং নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী জানান, তাঁদের জার্নালিজম বা অ্যানথ্রোপলজির মতো বিষয়ে পিএইচ ডি শিক্ষক নেই। যদিও, এই বিষয়গুলি খুবই স্কোরিং। কোনো কোনো পড়ুয়ার ৭৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে অ্যানথ্রোপলজি মূলত গবেষণাভিত্তিক বিষয়। তাই ভালো নম্বর পেলেও অন্য কলেজে যেতে হতে পারে কোনো কোনো কৃতীকে। যদিও, জয়দীপবাবুর দাবি, স্নাতকে ৭৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া পড়ুয়ার সংখ্যা খুব বেশি হবে না। বিজ্ঞানের বিষয়ে একটু বেশি থাকবে এমন পড়ুয়ার সংখ্যা। তাছাড়া, অধ্যক্ষের যে বিষয়ে পিএইচ ডি রয়েছে, সেটাও বিষয়ভিত্তিক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহ্য হবে। ক্লাস্টার কলেজ পদ্ধতিতে পার্শ্ববর্তী কলেজে এমন পড়ুয়াদের পাঠানো যায় কি না, সেই আইনি দিকটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন পড়ুয়ার জন্য কোনো বিষয়ে অনার্স উইথ রিসার্চ কোর্সটি চালু করার চেয়ে যেখানে বেশি পড়ুয়া রয়েছেন, সেখানে তাঁকে পাঠানোই বাস্তব সমাধান। অধ্যক্ষরা জানিয়েছেন, তাঁরা এদিনের বৈঠকে খুশি।
  • Link to this news (বর্তমান)