হুডখোলা জিপে প্রচার বা বর্ণাঢ্য রোড শো কম, হেঁটে জনসংযোগেই জোর দিচ্ছে সব পক্ষ
বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, হুডখোলা জিপে সওয়ার প্রার্থী—এসবই বহুকাল ধরে নির্বাচনি ময়দানের পরিচিত চিত্র। ডান হোক বা বাম, হুডখোলা জিপে রঙিন রোড শো সবসময় হয়ে থাকে নজরকাড়া। তবে এবার ছবিটা কিছুটা হলেও আলাদা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তৃণমূল হোক বা বিজেপি, এবারের প্রচার পর্বে বর্ণাঢ্য রোড শো শহর কলকাতায় তুলনামূলক কম। সব পক্ষই এবার বাড়তি জোর দিচ্ছে বাড়ি বাড়ি প্রচারে। পায়ে হেঁটে পাড়ার পর পাড়া ঘুরছেন প্রার্থীরা। গাড়িতে চেপে রোড শো’র তুলনায় ভোটারের দুয়ারে গিয়ে নিবিড় জনসংযোগের সুযোগ বেশি বলে মনে করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।
ভোট ঘোষণার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রচারে মন দিয়েছেন তাঁর অনুগত সৈনিক ফিরহাদ হাকিম। তিনি পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন, অলিগলি চষে ফেলেছেন। শুধু ভবানীপুর নয়, নিজের কলকাতা বন্দর কেন্দ্রেও পায়ে হেঁটেই রোজ দু’বেলা করে প্রচার চালাচ্ছেন কলকাতার মেয়র। একমাত্র বন্দরের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র পেশ করতে গিয়ে সপরিবারে হুডখোলা জিপে সওয়ার হয়ে বর্ণাঢ্য রোড শো করেছিলেন তিনি। এর বাইরে গত প্রায় এক মাস তিনি পায়ে হেঁটেই প্রচারে ঝড় তুলেছেন। একইভাবে টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসও এবার পায়ে হেঁটে জনসংযোগেই বেশি জোর দিয়েছেন। বাড়ি বাড়ি প্রচার কিংবা বর্ণাঢ্য মিছিল, সবটাই চলছে হাঁটা পথে। উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের অতীন ঘোষ কিংবা এন্টালি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সন্দীপন সাহা—সকলেই বাড়ি বাড়ি প্রচারে বিশেষ জোর দিয়েছেন। অতীন ঘোষ একদিন মাত্র হুডখোলা জিপে রোড শো করেছিলেন। শশী পাঁজা এখনও পর্যন্ত হেঁটেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাড়ায় পাড়ায় আলিগলিতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে স্থানীয় কর্মীদের কারও বাইকে চেপে পড়ছেন, খানিকটা বাইকে ঘুরে ফের হাঁটছেন। এ প্রসঙ্গে সন্দীপন সাহা বলেন, ‘রোড শো অবশ্যই রাজনৈতিক প্রচারে জৌলুশ বাড়ায়। তবে বাড়ি বাড়ি প্রচারে নিবিড় জনসংযোগ বেশি হয়। তাই বড়ো মিছিল কিংবা ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রচার, সব ক্ষেত্রেই বাড়ি বাড়ি পৌঁছে ভোটারদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান যোগাযোগেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে, শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, জোড়াসাঁকোর বিজেপি প্রার্থী বিজয় ওঝা কিংবা মানিকতলা কেন্দ্রের তাপস রায়, তাঁরাও পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি প্রচারেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। রোজ দু’বেলা ওয়ার্ড নির্দিষ্ট করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন তাঁরা। মাঝে পয়লা বৈশাখ ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মেগা রোড শো করে রাজ্য বিজেপি। সেখানে ছাদ খোলা গাড়িতে একসঙ্গে ছিলেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী, বিজয় ওঝা, সন্তোষ পাঠক, তাপস রায় সহ অন্যান্য বিজেপি নেতা। উত্তর কলকাতার একাধিক বিধানসভার দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সেদিন প্রচারে এসেছিলেন বিরোধী দলনেতা। এর বাইরে সেভাবে বড়ো মিছিল বা হুডখোলা জিপে প্রচারের চাকচিক্য বিজেপিও এবছর দেখাচ্ছে না। পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, ‘কোনো রাস্তা, পাড়া, গলি যেন বাদ না যায়। প্রত্যেক ভোটারের কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে। তার জন্য বাড়ি বাড়ি প্রচারের থেকে বড় মাধ্যম আর কিছু হতে পারে না। এতে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মেলে। অভাব-অভিযোগ জানা যায়।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ, চলতি বছর বঙ্গের নির্বাচনে কোনো দলই সেভাবে বড়ো খরচের প্রচারে জোর দিচ্ছে না। তবে বর্ণাঢ্য প্রচার যে একেবারে হচ্ছে না, তা বলা যাবে না। তবে ‘রাজকীয়’ প্রচার কৌশলের বদলে আড়ম্বরহীন নিবিড় প্রচারেই বেশি জোর দিচ্ছে সব দল।