নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বড়ো জনসভা কিংবা বিশাল র্যালি নয়। বাড়ি বাড়ি, পাড়ায় প্রচারের পাশাপাশি রাস্তার একধারে স্ট্রিট কর্ণারের মাধ্যমেই নিজেদের বক্তব্য ছড়িয়ে দিতে চায় রাজনৈতিক দলগুলি। যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দলের কথা পৌঁছে যায় প্রতিটি মানুষের কানে। আসলে মানুষের মনজয় করাই উদ্দেশ্য ভোটমুখী প্রতিটি দলের। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এবার ভোটের প্রচারে এই কৌশলকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে দলগুলি। তবে জেলার সর্বত্র বিভিন্ন ধারার প্রচারে সব দলকে পিছনে ফেলেছে তৃণমূল। এই জেলায় ঘাসফুল শিবির ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে ৮০০’রও বেশি প্রচার কর্মসূচির অনুমতি নিয়েছে। সিপিএম ও বিজেপি অনুমতি পেয়েছে যথাক্রমে ৩৮৪টি ও ৫১০টি কর্মসূচির। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় প্রচারের প্রশ্নে সবার উপরে রয়েছে যাদবপুর। সব দলই এই কেন্দ্রে জোরকদমে প্রচারে নেমেছে। এই জেলায় যাদবপুর ছাড়াও প্রচারের প্রশ্নে এগিয়ে রয়েছে কুলতলি ও কসবা। এই দুই কেন্দ্রে যথাক্রমে ১৩৮টি ও ১১৭টি প্রচার কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলিতে ভোটের প্রচার যে ঢিমেতালে চলছে, তা এই সংখ্যা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সুবিধা অ্যাপের তথ্য থেকেই এই খবর জানা গিয়েছে।
ভোট ঘোষণা থেকে মনোনয়নপত্র পেশ— বেশিরভাগ জায়গাতেই এই পর্বে ছোটো ছোটো সভা করে নিজেদের বক্তব্য ভোটারদের কাছে তুলে ধরেছে রাজনৈতিক দলগুলি। এমনকি, এখনও একবেলা যদি জনসংযোগে বের হন প্রার্থী, তাহলে আরেকবেলা স্ট্রিট কর্নারকেই প্রচারের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিচ্ছেন ডান-বাম উভয়পক্ষের প্রার্থীরা। যাওয়া-আসার পথে সংশ্লিষ্ট দলের বক্তব্য জানতে পারছেন ওই এলাকার মানুষ। বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অবনী মণ্ডল বলেন, পথসভার মাধ্যমে সহজেই মানুষের কাছে দলের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া যায়। তাছাড়া এই কর্মসূচির আয়োজন করতে খুব বেশি খরচও হয় না। লোকজনও খুব একটা লাগে না। একটি জনবহুল জায়গা বেছে নিয়ে সেখানে মাইক বেঁধে ভাষণ দেওয়া যায়। সিপিএম নেতা অর্কদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রতিটি বুথ এলাকায় না গিয়ে দু’-তিনটি বুথ ধরে পথসভা করা হচ্ছে। সর্বত্র দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। তৃণমূল নেতা তথা কালিকাপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান মাধব মণ্ডল বলেন, ২০-২৫ জনকে নিয়েও স্ট্রিট কর্নার করা যায়। বড়ো সভা করতে হলে জমায়েত গ্যারান্টেড করতে হয়। পথসভায় সেই জমায়েত করার দরকার পড়ে না। তাই এই পন্থাই বেশি পছন্দ বেশি দলগুলির।সাধারণ মানুষের বক্তব্য, বড়ো বড়ো মিছিল করলে শক্তি প্রদর্শন হয় ঠিকই, কিন্তু বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া যায় না। একটি পাড়ায় যদি স্ট্রিট কর্নার হয়, তাহলে মাইকের আওয়াজ ওই এলাার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া কত মানুষ দাঁড়িয়ে শুনছেন, তাঁদের কী অভিমত ইত্যাদি বুঝতে পারেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সব মিলিয়ে পথসভার জন্য প্রায় ৭০০ আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। মিছিলের জন্য যা আবেদন এসেছিল, তারমধ্যে ৪০০’রও বেশি অনুমোদন করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি প্রচার ও জনসংযোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে ৩৭০-এর বেশি আবেদনের।