নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটেও ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীর সংখ্যায় বাকি সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ছাপিয়ে গেল মোদি-শাহের বিজেপি। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ও হলফনামা বিশ্লেষণ করে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ রিপোর্ট দিয়েছে, বিজেপির ৭২ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাদের মোট ১৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০২ জন এমন ‘কীর্তিমান’! একইভাবে গুরুতর ফৌজদারি মামলা থাকার নিরিখেও সবার উপরে বিজেপি প্রার্থীরাই। এক্ষেত্রে খুন, খুনের চেষ্টা, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে বিজেপির ৯২ জন বা ৬৫ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
নির্বাচনি প্রচারে এসে ‘সুনার বাংলা’ গড়ার কথা বলতে শোনা গিয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে। রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরির অভিযোগ তুলে সন্ত্রাসমুক্ত বাংলা গড়ার কথাও বলতে শোনা গিয়েছে মোদি-শাহকে। কিন্তু তাঁদের এত সংখ্যক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকায় গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বালিগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী তথা রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছেন যে ওদের প্রতিটি কথাই আসলে জুমলা। ওদের মিথ্যে ছাড়া গতি নেই। কিন্তু ওদের একটা বিষয় মনে রাখা উচিত যে, মিথ্যে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। যাদের এতজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাঁদের মুখে সুশাসনের কথা মানায় কি?’ প্রসঙ্গত, প্রথম দফার ভোটেও সর্বাধিক ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থী রয়েছে বিজেপির।
ফৌজদারি এবং গুরুতর ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিজেপির পরেই সিপিএমের স্থান। দেখা যাচ্ছে, সিপিএমের যথাক্রমে ৫১ ও ৪২ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সেখানে রাজ্যের শাসক দলের মাত্র ৩০ ও ৩৫ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি ও গুরুতর ফৌজদারি মামলা। কংগ্রেসের ক্ষেত্রে ১৪২ প্রার্থীর মধ্যে এই সংখ্যা হল ৩৭ ও ৩০।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচের রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ কোটিপতি। দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৃণমূলের ৭৩ শতাংশ, বিজেপির ৫২ শতাংশ, সিপিএমের ৩৩ শতাংশ এবং কংগ্রেসের ২৫ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন। তবে দ্বিতীয় দফায় সর্বোচ্চ ঘোষিত সম্পত্তি হল রায়দিঘির বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানার। আর ঘোষিত শূন্য সম্পত্তি নিয়ে ভোটে লড়ছেন বেহালা পশ্চিমের নির্দল প্রার্থী মৌসুমি ঘোষ।