‘জোড়া ফুল... ৫ নম্বরে দেবদীপকে মনে রাখুন’, খড়দহের ভিড়ে ঠাসা জনসভা থেকে বার্তা মমতার
বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজিৎ মাইতি, খড়দহ; ‘খড়দহের প্রার্থী দেবদীপ পুরোহিত খুব ভালো ছেলে। আমার খুব প্রিয়। ইভিএমে দেবদীপের চিহ্ন জোড়াফুল আছে পাঁচ নম্বরে, মনে রাখুন। দেবদীপকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন। নিশ্চিত থাকুন, দেবদীপ থাকতে এখানে খারাপ কাজ হবে না।’ সোমবার বিকেলে খড়দহের সূর্য সেন খেলার মাঠে এক জনসভায় দলের প্রার্থীকে জেতানোর আবেদন জানান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি বিধায়ক মৃত কাজল সিনহার মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়েও নিজের দুঃখের কথা উল্লেখ করেন।
জানা গিয়েছে, এদিন নেত্রীর হেলিকপ্টার নামার অনুমতি নিয়ে টালবাহানা হয়। বীরভূম থেকে কপ্টার সরাসরি টিটাগড়ে এসে নামতে পারেনি। কলকাতা বিমানবন্দরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর বিকেল ৪টে ৫০ মিনিট নাগাদ আসে। সভায় পৌঁছে এ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। সভার অনুমতি দেওয়া নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘শুধু আমাদের দেরি করানোর চেষ্টাতে থাকেন। সভার জন্য মাঠের পারমিশন দিতেও দেরি করে। বিজেপি দেখে দেখে লোক এনে দায়িত্বে বসিয়েছে। আজ অনেক কষ্ট করে এই মিটিংয়ের পারমিশন নিতে হয়েছে।’ এরপর বক্তব্যে শ্লেষ মেশান নেত্রী। বলেন, ‘এখানে নাকি বিজেপির কোন এক কেউটে এসেছেন। তিনি নাকি বিরাট নেতা। নির্বাচনের সময় বিজেপি এঁদের দেখে দেখে ডিউটি দিয়েছে। এই জেলাটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খেয়ে নিচ্ছে। একটু সহ্য করুন। ভোটের বাক্সে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এর বদলা নেব। তারপর ক্ষীরের নাড়ু পাঠাব। ভাবছে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তার করে আর গাঁজা কেস দিয়ে পার পাবে? এখানে লাল-নীল-হলুদ-সবুজ কারা সব বসে অপারেট করছে? নিমাংসু লাল—আসল নাম নয়, আমার দেওয়া ছদ্মনাম। তিনি বসে লিস্ট বানাচ্ছেন কাকে কাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আর যিনি দায়িত্বে এসেছেন সে তো লর্ড সাহেবের বেটা। পারমিশন দিতেও বিজেপিকে জিজ্ঞেস করছে। আজ এত ঔদ্ধত্য! মানুষ ভোট বাক্সে এই অহংকারের বিষদাঁত ভেঙে দেবেন।’ এর পাশাপাশি মমতা ঠান্ডা কণ্ঠস্বরে বলেন, ‘প্রত্যেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। আমার আবেদন, একতরফা বিজেপিকে সমর্থন করবেন না।’ আর আচমকা সুর চড়িয়ে জানান, ‘এনাফ ইজ এনাফ। কাল আমি বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে আসব। কারও দয়া নয়, পারমিশন নিয়েই আসব।’
এরপর কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন মমতা। পুরনো সহকর্মী কাজল সিনহার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কাজলের কথা আজ খুব মনে পড়ছে। এই দুঃখ আমি ভুলতে পারব না।’ এরপর দেবদীপকে জেতানোর আবেদন জানান। বলেন, ‘৩৬৫ দিন রোদ, জল, বৃষ্টিতে ও আপনাদের পাশে থাকবে। ও খুবই ভালো ছেলে। আমার সঙ্গে ওর কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। কাজ করতে গেলে ভুল হতে পারে। কিন্তু আমরা কাজ করি। দেবদীপ জিতলে আমি এই মাঠে ফের আসব। আপনারা ওঁকে বিপুল ভোটে জেতান।’
গরম সত্ত্বেও দুপুর দেড়টা থেকে এদিন ভরে যায় মাঠ। মহিলাদের উপস্থিতি নজর কাড়ে সবার। সভাস্থল শুধু নয়, আশপাশের এলাকা ও রাস্তাতেও নেমে আসে জনতার ঢল।