অর্ঘ্য বিশ্বাস, লাটাগুড়ি
সাল ২০১০। দক্ষিণ আফ্রিকায় ফুটবল বিশ্বকাপে 'ভবিষ্যদ্বাণী' করার জন্য বিশ্বে প্রচারে এসেছিল অক্টোপাস 'পল'। তার সঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলার লাটাগুড়ির এক হাতির সরাসরি কোনও যোগ নেই। তবে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে পলের চেয়ে কম কিছু যাচ্ছে না এই দাঁতাল। ভোটে কে জিতবে, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত থাকলেও এলাকায় 'লুড়কা বাবা' নামে পরিচিত এই হাতিকে ভবিষ্যতদ্রষ্টা হিসেবে বেশ সমীহ করছেন তৃণমূল এবং বিজেপির নেতা–কর্মীরা।
লাটাগুড়ি জঙ্গল লাগোয়া বিছাভাঙা বনবস্তিতে প্রায়ই দেখা মেলে এই বিশালাকার দাঁতালের। কলাগাছ পেলেই খুশি। এলাকার বাসিন্দারাই ভালোবেসে তার নাম রেখেছেন 'লুড়কা বাবা'। ভোটের এই গরমাগরম আবহে রবিবার রাতে তাকে দেখা গিয়েছে রাজনৈতিক দলের পতাকা হাতে থুড়ি মুখে তুলে নিতে। আর এটাই এখন এলাকায় রাজনৈতিক চর্চার বিষয়। এই বনবস্তিতে এখনও পর্যন্ত কোনও দলের প্রার্থীর পা পড়েনি। যদিও ফ্ল্যাগ–ফেস্টুনে ছেয়ে গিয়েছে এলাকা। ওই রাতে বিছাভাঙা বনবস্তিতে ঢুকে হাতিটি হঠাৎই এক জনের বাড়ির বেড়ায় টাঙানো বিজেপির পতাকা দেখে থমকে যায়। আলতো করে স্পর্শ করে ঝান্ডাটি। এরপরে তার নজর পড়ে কাছেই থাকা তৃণমূলের পতাকার দিকে। সঙ্গে সঙ্গে পদ্মের ঝান্ডা ছেড়ে শাসকদলের পতাকার দিকে এগিয়ে যায় সে।
ওই পতাকাটিকে শুঁড় ও দাঁত দিয়ে টানার চেষ্টা করে। ততক্ষণে দাঁতালের কীর্তি অনেকের মোবাইলে বন্দি হয়ে গিয়েছে। এই ভিডিয়োই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। হাতির পতাকা ছোঁয়া কীসের ইঙ্গিত, তা নিয়ে শুরু হয় তরজা। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সহ–সভাপতি সীমা কেরকেট্টা বলেন, 'এ বার তৃণমুলের পতন অনিবার্য। তাই হাতিটি জোড়াফুলের পতাকাটি সরিয়ে ফেলতে চেয়েছিল।' এ কথা না মেনে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ফের তৃণমূল ক্ষমতায় আসছে। মহাকাল বাবা তা আগাম জানান দিয়ে গেল।' হাতির এমন আচরণকে রাজনৈতিক দলগুলি ভোট–ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে গেলেও পরিবেশবিদ অনিমেষ বসু অবশ্য ঘটনাটিকে 'স্বাভাবিক' বলেই মনে করছেন। তাঁর কথায়, 'তাদের আসা–যাওয়ার পথে কোনও কিছু থাকলে তা শুঁড় দিয়ে আঘাত করে। যেহেতু দলীয় পতাকা রঙিন, তাই আকৃষ্ট হয়েছে হাতিটি।' লাটাগুড়ির রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত বলেন, 'কোনও বস্তুকে সামনে পেলেই হাতি তা শুঁড়ে স্পর্শ করে।'