• আরও অনেক উন্নতি করতে হবে নাইটদের, বুধবার লখনউ যাচ্ছে কেকেআর
    বর্তমান | ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সাত নম্বর ম্যাচে এসেছে স্বস্তির জয়। রবিবার রাজস্থানের বিরুদ্ধে ৪ উইকেটে জিতে খানিকটা চাপমুক্ত কলকাতা নাইট রাইডার্সের ড্রেসিং রুম। কিন্তু দিল্লি এখনও অনেক দূর! প্লে-অফের টিকিট পেতে গেলে বাকি সাত ম্যাচেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে রিঙ্কু-রাহানেদের। অন্যথায় মুখের উপর দরজা বন্ধ হওয়া নিশ্চিত। সমস্যা হল, কেকেআরের পরের চারটি ম্যাচই অ্যাওয়ে। ২৬ এপ্রিল লখনউ সুপার জায়ান্টস, ৩ মে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, ৮ মে দিল্লি ক্যাপিটালস ও ১৩ মে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এরমধ্যে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে খেলা বিকাল সাড়ে তিনটেয়। নিশ্চিতভাবেই সেখানে মন্থর পিচের কোনো সুবিধা বরুণ চক্রবর্তী, সুনীল নারিনদের জন্য অপেক্ষা করছে না। আর সহায়ক পিচ না মিললে নাইটদের স্পিন ফলা ভোঁতাই। অন্তত বরুণের নিজের মুখের স্বীকারোক্তি সেটাই।

    কলকাতার সুবিধা হল, পরের ম্যাচটা রবিবার। তার পরেরটা আরও সাতদিন পর। ফলে প্রস্তুতি এবং হোমওয়ার্কের জন্য হাতে সময় থাকছে। আর তা কাজে লাগাতে পারলে লিগের শেষ ভাগে অন্য চেহারায় দেখা যেতেই পারে রাহানে ব্রিগেডকে। সেই আশায় বুক বেঁধে বুধবার লখনউ রওনা হবে নাইটরা। তবে তার আগে সোমবারই ইডেনে প্র্যাকটিস করতে দেখা গেল মাথিশা পাথিরানাকে। চোট সারিয়ে ওঠা শ্রীলঙ্কান পেসারের লক্ষ্য দ্রুত ম্যাচ-ফিট হয়ে ওঠা।
    কোচ অভিষেক নায়ারের সামনে রীতিমতো কঠিন চ্যালেঞ্জ। রাতারাতি দলের এত ফাঁকফোকর মেরামাত করা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়! তার জন্য সবার আগে প্রয়োজন আত্মবিশ্লেষণ। সঠিক কম্বিনেশন গড়ে তোলাও সমান জরুরি। ওপেনিং জুটি ভুগিয়ে চলেছে প্রতি ম্যাচে। দুই কিউয়ি ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট ব্যর্থ হওয়াকেই নিয়ম করে ফেলেছেন। দু’জনের জন্য নিলামে খরচা হয়েছে মোট সাড়ে তিন কোটি টাকা। কিন্তু পারফরম্যান্সে আস্ত গোল্লা। আবার ২৫.২ কোটির ক্যামেরন গ্রিন একটা ম্যাচ ছাড়া বড় রান করেননি। সাত ইনিংসে সংগ্রহ ১৬২ রান। উইকেট নিয়েছেন একটি। কোটি কোটি টাকার জলাঞ্জলি ছাড়া আর কী!

    লিগের দ্বিতীয়ার্ধে কি স্ট্র্যাটেজি পালটাবে নাইটরা? খেলানো কি হবে রাচীন রবীন্দ্রকে? ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ভালো স্পিনও করতে পারেন তিনি। তাই এবার অন্তত তাঁর সুযোগ পাওয়া উচিত। রাচীন, নারিন, গ্রিনের সঙ্গে চতুর্থ বিদেশি হিসেবে খেলানো হোক পাথিরানাকে। তাঁর অন্তর্ভুক্তি তীক্ষ্ণতা বাড়াবে আক্রমণে। অবশ্য রভম্যান পাওয়েলকে বসাতে না চাইলে অন্য কথা। পাঁচ ইনিংসে ৭৬ করা রামনদীপ সিংয়ের জায়গা নিয়েও ভাবা উচিত। রাহুল ত্রিপাঠি, মণীশ পাণ্ডে তো বটেই, সার্থক রঞ্জনের মতো তরুণ তুর্কি আর কবে সুযোগ পাবেন? সব দলই কোনো না কোনো নবীন প্রতিভাকে খেলিয়ে চমকে দিচ্ছে। সেখানে নাইটরা এখনও টিম লিস্টের ব্যর্থ খসড়াই আগলে রেখেছে।

    বরুণ-নারিনের বোলিং এবং রিঙ্কু-অনুকূলের লড়াকু ব্যাটিং রবিবার অনেক অপ্রিয় প্রশ্নের হাত থেকে বাঁচিয়েছে নাইটদের। নাহলে টানা দুটো শূন্যের পর ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানেকে নিয়েও নির্ঘাত বাউন্সার ছুটে আসত। কোচ অভিষেক নায়ারের উপরও চাপ বাড়ত মারাত্মকভাবে। ম্যাচ শেষে রিঙ্কুর কান্নাতেই পরিষ্কার, জয়টা কত জরুরি ছিল সোনালি-বেগুনি জার্সিধারীদের। রাজস্থানের বিরুদ্ধে অবশ্য ভাগ্যের সাহায্যও মিলেছে। নাহলে রিঙ্কুর সহজতম ক্যাচ পড়ে না। রাহানেদের মাথায় রাখা দরকার, প্রতিদিন কিন্তু ক্রিকেট ঈশ্বরের আশীর্বাদের হাত মাথায় থাকবে না। তাই এবার অন্তত নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা উচিত।
  • Link to this news (বর্তমান)